বেইজিংয়ের রোবট গেমসে মানবাকৃতির রোবটের নতুন রেকর্ড

‘আমাদের দেশের অর্থনীতির বিকাশের সাথে মানুষের পকেটে অর্থের পরিমাণ বাড়ছে। তারা হয়তো রোবট ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মাথাবিহীন মানবাকৃতির রোবট
মাথাবিহীন মানবাকৃতির রোবট |সংগৃহীত

বেইজিংয়ে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত বিশ্ব রোবট গেমসে মুখবিহীন মানবাকৃতির রোবটগুলো মানুষের বিভিন্ন রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একইসাথে চীন এই শিল্পে তার আধিপত্যও তুলে ধরেছে। প্রতিযোগিতায় শত শত দর্শক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

এএফপি জানায়, রোবট ও তাদের মানব অপারেটরদের নিয়ে কয়েক ডজন দল রোববার বেইজিংয়ের অলিম্পিক স্পিড স্কেটিং অ্যারেনায় জড়ো হয়। অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ফুটবল ও মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন ইভেন্টে তারা প্রতিযোগিতা করে।

শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি চীনা রোবট ১০০ মিটার দৌড়ে জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের রেকর্ড ভেঙে দেয়। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ‘তিয়ানগং আল্ট্রা’ নামের সাদা ও মাথাবিহীন মানবাকৃতির রোবটটি ৯.৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় সম্পন্ন করে। এতে ২০০৯ সালে বোল্টের করা ৯.৫৮ সেকেন্ডের সেরা সময়টি ছাড়িয়ে যায়।

রোবট নির্মাতারা রোববার আরো একটি সাফল্য অর্জন করেন। একই মডেলের রোবট ৪০০ মিটার দৌড়ের বিশ্ব রেকর্ড প্রায় পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেঙে দেয়।

বেইজিংয়ের স্থানীয় সরকার-সমর্থিত একটি গবেষণাকেন্দ্রে তৈরি রোবটটি ৩৮.১৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। পরে সময়টি সংশোধন করে ৩৮.১৫ সেকেন্ড করা হয়।

৪০০ মিটারের একটি হিটে সাদা আবরণে ঢাকা একটি রোবট দুই হাত পাশ থেকে পাশ দুলিয়ে ট্র্যাকের চারপাশে ছুটে যায়। পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সেটি বিপজ্জনকভাবে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ছিল। দর্শকেরা মুখে মুখে জানতে চাইছিলেন, রোবটটি শেষ পর্যন্ত পড়ে যাবে কি না।

ফিনিশিং লাইনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সময় রোবটটি দুলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি সোজা অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

রোবট-অ্যাথলেটদের ব্যর্থতাও দর্শকদের সমান আনন্দ দিয়েছে। একাধিক রোবট দৌড় শুরুই করতে পারেনি।

অন্য কয়েকটি রোবট দ্রুত হাঁটার গতিতে ট্র্যাক অতিক্রম করেছে, আবার কিছু স্টার্ট দেয়ার সাথে সাথেই পড়ে গেছে।

শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা হাঁটু-সমান ব্যারিকেডের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে ফুটবল মেরে দেয়া শিশুর আকারের একটি রোবট দেখে হাসিতে ফেটে পড়ে।

‘এটি বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা নয়’

প্রতিটি অগোছালো ও দুর্বলভাবে রক্ষিত গোলের ঘটনায় দর্শকসারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। হাঁটতে হাঁটতে গোল করার চেষ্টা করা মানবাকৃতির রোবটগুলোকে দেখে গ্যালারি করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

বক্সিং রিংয়ে একটি মানবাকৃতির রোবট হোঁচট খেয়ে এক পাশে চলে গিয়ে রশির ওপর ঝুঁকে পড়ে। এরপর সেটি সেখানেই নিস্তব্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে, যতক্ষণ না মানুষ এসে সেটিকে সরিয়ে নেয়। এ দৃশ্যেও দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।

৭২ বছর বয়সী দর্শক হউ ইয়ালি সপ্তাহান্তের রোবটদের রেকর্ড দেখে এখন মানুষের সাথে রোবটের প্রতিযোগিতা দেখতে আগ্রহী।

‘তাহলেই আমরা আরও পরিষ্কারভাবে দেখতে পারব, যন্ত্র মানুষকে ছাড়িয়ে যেতে পারে কি না,’ বলেন বেইজিংয়ের অবসরপ্রাপ্ত এই বাসিন্দা।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এটি শুধু দৌড়, কেবল গতির প্রতিযোগিতা। এটি বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা নয়; কিংবা কাউকে নিয়োগ দিয়ে গৃহস্থালির কাজ করানো বা বাড়িতে থেকে সহায়তা করার মতো বিষয়ও নয়।’

হউ প্রতি সপ্তাহে নিজের বাড়ি পরিষ্কার করা ও রান্নার জন্য সহকারীকে অর্থ দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রোবটকে এসব কাজ করতে দেখতে চান।

‘আমাদের দেশের অর্থনীতির বিকাশের সাথে মানুষের পকেটে অর্থের পরিমাণ বাড়ছে। তারা হয়তো রোবট ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন,’ তিনি বলেন।

Topics