ব্যর্থ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা : যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্কের জবাবে পাল্টা শুল্কের ঘোষণা কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কড়া জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশও ডলারের হিসাবে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কানাডা ও যুক্তরাুস্ট্রের পতাকা
কানাডা ও যুক্তরাুস্ট্রের পতাকা |সংগৃহীত

ঐতিহাসিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বে নতুন করে বড় ধরনের টানাপড়েনে জড়িয়ে পড়েছে কানাডা। দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নিরসনে শেষ মুহূর্তের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কড়া জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশও ডলারের হিসাবে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।

মার্কিন সংবাদ চ্যানেল সিবিএস নিউজ রোববার (২৩ আগস্ট) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সিদ্ধান্ত কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বাৎসরিক রফতানি পণ্যের প্রায় ৫ শতাংশকে প্রভাবিত করবে। হকি স্টিকে শুরু করে চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যন্ত বহু পণ্য এর আওতায় পড়ছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার উদ্দেশ্যে গত বুধবারে কার্যকর হতে যাওয়া শুল্কের সময়সীমা তিন দিন বাড়িয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; উভয় দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যেসব শর্তে একমত হওয়া গিয়েছিল, কানাডা শেষ পর্যন্ত সে অনুযায়ী চুক্তি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অদূর ভবিষ্যতে অটোয়ার সঙ্গে নতুন কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

‘চাওয়া অনেক বেশি, অফার অতি সামান্য’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে জানান, শ্রম দিবসের পরবর্তী মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কানাডার পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হতে শুরু করবে। অটোয়া মূলত মার্কিন ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতি, কাগজ ও ইলেকট্রনিক্স খাতের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কার্নি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের শেষ মুহূর্তের নতুন দাবিগুলো অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য ছিল। তাঁর ভাষায়, 'তারা চেয়েছে অনেক বেশি, কিন্তু দিতে চেয়েছে খুবই সামান্য।'

কানাডার রাজনৈতিক মহলেও এই পদক্ষেপের পক্ষে জোর সমর্থন মিলছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড প্রধানমন্ত্রী কার্নির সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, 'প্রতিটি ডলারের বিপরীতে ডলার শুল্ক আরোপ করেই এর জবাব দিতে হবে।'

এদিকে রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প পাল্টা লিখেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও একটি রাষ্ট্রের সব সুবিধা ভোগ করতে চায়।

ভবিষ্যতের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ

দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যকার এই ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক উত্তেজনার অর্থনৈতিক প্রভাবের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরও এই দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা বাণিজ্য করেছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপিয়ে নতুন এই শুল্কের মেয়াদ বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন ইরানে যুদ্ধের কারণে সাধারণ আমেরিকানরা মূল্যস্ফীতির চাপে ভুগছেন।