ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লোকদেখানো : মার্কিন সিনেটর

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মরফি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাকে একটি লোকদেখানো ও অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কোনো যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মরফি
মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মরফি |সংগৃহীত

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মরফি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাকে একটি লোকদেখানো ও অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কোনো যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।

ইরানি ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মরফি সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে একটি বার্তায় লিখেছেন, ‘ডি-ডে’ (যেদিন অভিযান শুরু হয়েছিল) একটি হতাশাজনক লোকদেখানো ব্যাপার। ইরান যুদ্ধে জিতছে এবং ট্রাম্প হারছেন। আমেরিকানরা এর জন্য অনেক চড়া মূল্য দিচ্ছে। আসুন আমরা খতিয়ে দেখি আমরা কোথায় আছি এবং কেন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরেকটি বোকামির কাজ।

তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আসুন আমরা মনে রাখি যে, ট্রাম্পের কোনো যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। (ইরানি) শাসনব্যবস্থা অক্ষত ও স্থিতিশীল। তাদের কাছে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে। এমনকি তারা আমাদের উপহাস করে এবং তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করে।’

মরফি জোর দিয়ে বলেন, আরো খারাপ ব্যাপার হলো যুদ্ধের আগে ইরান হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করত না। এখন তাই হচ্ছে। পারস্য উপসাগর দিয়ে যাতায়াত সীমাবদ্ধ এবং কোনো জাহাজ পার হতে হলে আমেরিকান করদাতাদের টাকায় এক বিলিয়ন ডলারের একটি এসকর্ট মিশনের সাহায্য নিতে হচ্ছে। এটা একটা বিপর্যয়। গ্যাসের দাম এখনো চড়া।

তিনি স্বীকার করেছেন, আজ ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণা করছেন কারণ ইরান তাকে একটি কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। তিনি সব ধরনের কঠোর শব্দ ব্যবহার করছেন, কিন্তু তা অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বর। কেন? কারণ প্রথমত, আমরা ইরানের প্রায় সবকিছুর ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। আর কিছুই বাকি নেই। ‘ডি-ডে’ একটি বড়াই মাত্র।

ডি-ডে হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি সামরিক পরিভাষা, যা কোনো যুদ্ধে একটি বড় ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান শুরুর সময়কে বোঝায়।

ক্রিস মরফি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, চীন যতক্ষণ ইরানের তেল কিনতে থাকবে, ততক্ষণ তারা অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে এবং তাদের তেল কেনা বন্ধ করার কোনো লক্ষণ নেই। আরো খারাপ ব্যাপার হলো, ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের এই মোহ চীনকে নতুন সুবিধা দিয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘হয়তো চীন ইরান থেকে তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু কেবল যদি আমরা তাদের আরো এআই মাইক্রোচিপ দেই। অথবা তাইওয়ানকে বিক্রি করে দেই। খুব সম্ভবত, আমরা চীনের ওপর কোনো সত্যিকারের চাপ সৃষ্টি করব না, কারণ আমরা জানি যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যাবশ্যকীয় খনিজ রফতানি বন্ধ করে দিয়ে এর প্রতিশোধ নেবে।’

সূত্র : পার্সটুডে