১৯৮৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত সর্বনিম্নে

ইরান যুদ্ধের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ |সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সঙ্কট সামাল দিতে গিয়ে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জরুরি তেলের ভাণ্ডার বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ৫৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কমে গেছে।

মার্কিন জ্বালানি দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি রিজার্ভে তেলের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেলে। এটি ১৯৮৩ সালের মে মাসের পর থেকে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মজুতের রেকর্ড।

স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ এবং সুরক্ষিত এক তেল ভাণ্ডার। এই ভাণ্ডার কোনো যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মার্কিন জাতীয় জরুরি অবস্থায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাটির নিচে বিশাল ট্যাংকে জমিয়ে রাখা হয়।

কিন্তু ইরানের সাথে যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে এবং জ্বালানির লাগামহীন দাম টেনে ধরতেই মূলত নিজেদের এই জরুরি ভাণ্ডার থেকে তেল সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এই সংরক্ষিত তহবিল থেকে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের যোগান দেয়ার চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরই জেরে এই বিশাল ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে মার্কিন তেলের চড়া রফতানি এবং শোধনাগারগুলোর বিপুল চাহিদা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই দুই কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত খুব দ্রুত গতিতে কমছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক এবং জরুরি সরকারি রিজার্ভ মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক তেলের মজুত ১১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল কমেছে।

গত ১৯ জুনের হিসাব অনুযায়ী, এই সামগ্রিক মজুতের পরিমাণ এখন মাত্র ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল, যা ১৯৮৪ সালের পর থেকে সবচেয়ে কম।

সূত্র : রয়টার্স