জাতিসঙ্ঘের পরবর্তী মহাসচিব বাছাইয়ে দ্বিতীয় দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট আজ

জাতিসঙ্ঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট দেবে। ক্রমেই বাড়তে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে কার প্রতি কতটা সমর্থন রয়েছে, তা বোঝার জন্য এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতিসঙ্ঘের লোগো
জাতিসঙ্ঘের লোগো |ফাইল ছবি

জাতিসঙ্ঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট দেবে। ক্রমেই বাড়তে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে কার প্রতি কতটা সমর্থন রয়েছে, তা বোঝার জন্য এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত মাসে প্রথম দফার গোপন ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন। ওই ভোটে ভেটো প্রদানের ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ প্রার্থীদের বিষয়ে গোপনে তাদের মতামত প্রদান করে।

এবারের প্রার্থীদের মধ্যে আরো রয়েছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, যিনি বর্তমানে জাতিসঙ্ঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান; চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বির্কেট, উগান্ডার ওলার ওতুনু এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল।

প্রথম দফার ভোটের পর ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকিও প্রার্থিতার ঘোষণা দেন। তিনি আগামী ৩১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে যাওয়া বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে যোগ দিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল ফোর্তি বলেন, প্রথম দফার ভোট মহাসচিব নির্বাচনের প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরেছে। দ্বিতীয় দফার ভোট থেকে প্রতিযোগিতাটি কোন দিকে এগোচ্ছে, সে বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, জুলাই মাসের ভোটের তুলনায় এবার প্রার্থীদের ভোটের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থন আরো সুসংহত করতে পারছেন, নাকি পিছিয়ে পড়ছেন—কূটনীতিকরা মূলত সেদিকেই নজর রাখবেন।

তবে শুক্রবারের ভোটের পর কোনো প্রার্থী স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যাবেন—এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন ফোর্তি।

ড্যানিয়েল ফোর্তিতিনি বলেন, ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ দেশ—যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—সম্ভবত পরবর্তী পর্যায় পর্যন্ত নিজেদের পছন্দ প্রকাশ নাও করতে পারে। এছাড়া নতুন প্রার্থীও প্রতিযোগিতায় যুক্ত হতে পারেন।

জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে থাকা কোনো প্রার্থীকে নিয়ে যদি অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং কেউ যদি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে নতুন প্রার্থীকেও দেখা যেতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে কোনো প্রার্থী কমপক্ষে নয়টি ভোট পেলেও তার জন্য আরেকটি বড় বাধা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে সেই প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারবেন না। এই পাঁচ দেশের মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিরোধ রয়েছে।

কোনো প্রার্থী নিরাপত্তা পরিষদের এই দুই ধাপের বাধা অতিক্রম করতে পারলে তার নাম জাতিসঙ্ঘের সব সদস্য দেশের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

নিরাপত্তা পরিষদের এই অনানুষ্ঠানিক ভোট পদ্ধতি ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে চালু করা হয়। সে সময় ভেটোর কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটাতেই এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের সমালোচনা থাকলেও বিভিন্ন রূপে এই অনানুষ্ঠানিক ভোট পদ্ধতি চালু রয়েছে।

ফোর্তি বলেন, শুক্রবারের ভোটের পর কিছু প্রার্থী হয়তো বুঝতে পারবেন যে তাদের প্রচারণা আর এগিয়ে নেয়ার মতো অবস্থায় নেই।

সূত্র: বাসস