১৮ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১১ মহররম ১৪৪৬
`

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে যেভাবে সাহায্য করছে উত্তর কোরিয়া

ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উন - ছবি : সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফর বিশ্ব রাজনীতিতে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকেরা।

বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ কিম জং উন এবং পুতিন একটি সামরিক চুক্তি সই করেছেন। এতে বলা হয়েছে, অন্য কোনো শক্তি এই দু'দেশের কোনো একটির ওপর আক্রমণ চালালে অন্য দেশ তাকে সাহায্য করবে।

বছরখানেক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার তৈরি কার্তুজ এবং গোলা ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, উত্তর কোরিয়ার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রাশিয়া ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।

অন্যদিকে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে সামরিক এবং উপগ্রহ বিষয়ে প্রযুক্তিগত সাহায্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বার বার। যদিও দু’দেশই এ অভিযোগ মানতে চায়নি। কারণ উত্তর কোরিয়াকে সামরিক সাহায্যের ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘের নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। রাশিয়াও তা ভাঙতে পারে না।

পিয়ংইয়ং আরো ৫০ লাখ গোলা দিতে পারে
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে আরো ৫০ লাখ গোলা পাঠিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিন ওয়ানসিকের দাবি, তার দেশ অন্তত ১০ হাজার শিপিং কন্টেনার উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়ার দিকে যেতে দেখেছে। যাতে গোলা ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শিন জানান, পিয়ংইয়ং সফরে এসে পুতিন আরো গোলা এবং কার্তুজ পাঠানোর আবেদন করেছেন বলে তাদের ধারণা।

এদিকে ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অস্ট্রিয়ার এক সামরিক বিশেষজ্ঞ জানান, ইউক্রেনকে গত এক বছরে ১০ লাখ গোলা দেয়ার কথা ছিল পাশ্চাত্যে দেশগুলোর। কিন্তু তারা তার অর্ধেকও দিয়ে উঠতে পারেনি। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে রাশিয়া তার তিন গুণেরও বেশি গোলা আনিয়ে নিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র
মার্কিন গোয়েন্দারা গত জানুয়ারিতে অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইউক্রেনে উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। যার রেঞ্জ প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। পরে ইউক্রেনও একই দাবি করে। যদিও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের খুঁটিনাটি তথ্য মার্কিন গোয়েন্দারা দেননি।

উত্তরের আসল শত্রু  দক্ষিণ
সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের বক্তব্য, উত্তর কোরিয়া দরকারের সময় রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলা দিয়ে সাহায্য করলেও তাদের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি শেখা। কারণ উত্তর কোরিয়ার মূল শত্রু দক্ষিণ কোরিয়া। কোনোভাবেই তারা নিজেদের অস্ত্রাগার শূন্য করে রাশিয়াকে সাহায্য করবে না। কারণ তারা জানে, যেকোনো সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে লড়াই হতে পারে। বস্তুত, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোরিয়া সাগর অঞ্চলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র জোটবদ্ধ এবং অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে কূটনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে প্রয়োজন তাদের।

উত্তর কোরিয়ার শ্রমিক
কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, উত্তর কোরিয়া কেবলমাত্র সামরিক ক্ষেত্রেই রাশিয়াকে সাহায্য করছে না, তারা শ্রমিক পাঠিয়েও সাহায্য করছে। ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনের যে জায়গাগুলো রাশিয়া নতুন করে দখল করতে শুরু করেছে, সেখানে শ্রমিক পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। কারণ রাশিয়ার বেশিভাগ শ্রমিক এখন যুদ্ধক্ষেত্রে। রাশিয়ার জন্য এটিও একটি বড় সাহায্য। পাশাপাশি প্রথম দিন থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পাশে থেকেছে উত্তর কোরিয়া। এই বিষয়টিও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

চীন থেকে দূরে?
গত কয়েক বছরে কিম জং উনের আগ্রাসন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। যেভাবে একের পর এক সামরিক পরীক্ষা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন, তা অভূতপূর্ব। এবং এর কারণ রাশিয়ার মতো শক্তি তার পেছনে আছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার সাথে কিমের এই সখ্য উত্তর কোরিয়াকে চীনের থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে বলেও কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ



premium cement