সরকারের কাছে নিজস্ব স্থায়ী সদরদফতর প্রতিষ্ঠা এবং জনবল বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ।
সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) গাজী জসীম উদ্দিন বাসস’কে বলেন, "দেশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পখাতে কার্যকর নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এ দু'টি বিষয়ই অপরিহার্য।"
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশেষায়িত বাহিনীটি রাজধানীর উত্তরায় ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদিও এ সময়ের মধ্যে তাদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
জসীম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নিজস্ব কোনো সদরদফতর নেই। বাহিনীর কার্যক্রম আরো দক্ষ ও গতিশীল করতে এবং বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে এখন স্থায়ী সদরদফতর অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরো জানান, জনবল সঙ্কটও বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফলে শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রম-সংক্রান্ত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুমোদিত জনবল চার হাজার দুই শ' জন। অথচ কর্মরত রয়েছেন প্রায় তিন হাজার ৪৭০ জন। দেশজুড়ে শিল্প এলাকার দ্রুত সম্প্রসারণের কথা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর শিল্প নিরাপত্তা ও শ্রম আইন প্রয়োগের জন্য আরো জনবল প্রয়োজন।’
জসীম উদ্দিন জানান, কার্যক্রম আরো জোরদার করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পৃথক পুলিশ লাইনস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। সেজন্য ইতোমধ্যে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং স্থাপনার নকশা তৈরি করছে গণপূর্ত অধিদফতর।
শিল্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উৎপাদনবান্ধব স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্প পুলিশের নয়টি ইউনিট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে কাজ করছে চারটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট।
কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের শিল্পখাত ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার তৈরি পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন।
তাদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের নেতৃত্বে এ খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় হচ্ছে। ফলে শিল্প পুলিশের সক্ষমতা আরো বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত করা সময়ের দাবি।
জসীম উদ্দিন বলেন, অবকাঠামো জোরদার ও জনবল বাড়ানো হলে শ্রম বিরোধ মোকাবিলায় বাহিনী আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, শিল্প সম্পদ রক্ষা এবং শ্রমিক ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে।
নিজস্ব সদরদফতর ও অতিরিক্ত জনবল চায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ
জনবল সঙ্কটও বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফলে শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রম-সংক্রান্ত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।



