মেগা প্রকল্প থেকে মেগা লুটের আগ্রহ এই সরকারের নেই : জোনায়েদ সাকি

সরকারের মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা রাখতে হয়। মানে একটা সরকার এসে সবকিছু (প্রকল্প) বন্ধ করে দিলে এটা অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করবে। ফলে আমাদের বাছাই করতে হচ্ছে। আমরা নানাভাবে রেশনালাইজ করে- মানে যৌক্তিকীকরণ করে সেটাকে সম্পন্ন করার দিকে যাচ্ছি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জোনায়েদ সাকি
জোনায়েদ সাকি |ইন্টারনেট

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘শুধু মেগা প্রকল্প বানিয়ে, মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নতির একটা ফানুস তৈরি করে সেখান থেকে মেগা লুটের ব্যাপারে এই সরকারের কোনো আগ্রহ নেই। আমাদের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে গৃহীত অনেক প্রকল্প গলার কাঁটা হয়ে গেছে।’

আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান অপেক্ষা বাস্তবায়ন দক্ষতা বেশি জরুরি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে যে অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে, সেখান থেকে বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে বেশ রক্ষণশীল। অর্থাৎ মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে আগ্রহ কম। কারণ, মেগা প্রকল্পের চাইতে মানব সম্পদের উন্নতিটা হচ্ছে প্রধান বিবেচনা। মানব সম্পদ উন্নতি করতে গিয়ে, দেশে উৎপাদনশীল খাত বিকশিত করতে গিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেটা উৎপাদনের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ, যা প্রয়োজনীয়- সেগুলোর দিকে হয়তো আমরা যাব।

তিনি আরো বলেন, সরকারের মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা রাখতে হয়। মানে একটা সরকার এসে সবকিছু (প্রকল্প) বন্ধ করে দিলে এটা অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করবে। ফলে আমাদের বাছাই করতে হচ্ছে। আমরা নানাভাবে রেশনালাইজ করে- মানে যৌক্তিকীকরণ করে সেটাকে সম্পন্ন করার দিকে যাচ্ছি। যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কম, সেগুলোকে আমরা নতুন প্রকল্পের সাথে কিভাবে ইন্টিগ্রেট করে অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে একীভূত করে এগিয়ে যেতে পারি, সেটার পরিকল্পনা করছি। ফলে, প্রকল্পগুলোকে নিয়েও আবার ব্যাপক পুনঃসজ্জা চলছে।

চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, গত চার মাসে এনবিআরের কার্যক্রমে যে গতিশীলতা এসেছে, তার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে। সামনে আরো কিছু নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এসব উদ্যোগ কার্যকর হলে আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত দুই লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইলেই ঋণের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। কারণ, আগের সরকারের নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধের দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ঋণ গ্রহণ ও ঘাটতি বাজেট বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০১২ সালে নেয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প এখনো চলমান রয়েছে এবং সেগুলো শেষ করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর পড়েছে। তবে সরকার ধীরে ধীরে ঋণনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

সূত্র : বাসস