ইচ্ছাকৃতভাবে সার সঙ্কট তৈরির চেষ্টা : কৃষিমন্ত্রী

সার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বিশেষ কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আমিন উর রশিদ বলেন, ‘সার নিয়ে কোনো আলোচনা ওইভাবে আসলে হয় নাই। আপনারা সার নিয়ে যেভাবে মনে করছেন, বিষয়টা তেমন না।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ |ফাইল ছবি

দেশে সারের কোনো প্রকৃত সঙ্কট নেই, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে সার নিয়ে সঙ্কট তৈরির চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘এটা যেহেতু প্রকৃত সঙ্কট না, তৈরি করা হয়েছে। যার কারণে মনিটরিং টিম তৈরি করা হয়েছে। আশা করি, জাস্ট দুই-এক দিনের ভেতরে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যেই রোববার বিকেলে কৃষিমন্ত্রী এমন বক্তব্য দেন। বিকেলে কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় কৃষিমন্ত্রী, সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সার পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন।

সার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বিশেষ কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আমিন উর রশিদ বলেন, ‘সার নিয়ে কোনো আলোচনা ওইভাবে আসলে হয় নাই। আপনারা সার নিয়ে যেভাবে মনে করছেন, বিষয়টা তেমন না।’

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারবাহী একটি জাহাজ আসার খবরকে কেন্দ্র করে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যেন দেশে সার আসছে না। অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

সারের মজুদের তথ্য তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে এই মুহূর্তে যেই পরিমাণ সার আছে, গত বছর এক্সাক্টলি এই দিনের তুলনায় দুই লাখ টন সার বেশি আছে।’ তার দাবি, সার আমদানির প্রক্রিয়াও নিয়মিত রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহেই এক বা একাধিক জাহাজে সার দেশে আসে।

তিনি বলেন, সাধারণত দেশে ১০ থেকে ১২ লাখ টন সার রিজার্ভ রাখা হয়। পিক সিজনের আগে কোনো কোনো সময় এই মজুদ ১৫ লাখ টন পর্যন্ত করা হয়। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি গুদামে থাকা এই সার জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহ না করুক, একটা জাহাজ ডুবে গেল, একটা জাহাজের সমস্যা হলো, তখন কী হবে? তখন যেন প্রবলেম না হয়, এই জন্য মিনিমাম দুই থেকে তিন মাসের মজুদ আমাদের কাছে থাকে।’

সার নিয়ে কোনো সঙ্কট নেই দাবি করে কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কিছু লোক চেষ্টা করছিল সারের ইচ্ছাকৃত ক্রাইসিস তৈরি করার।’ তার দাবি, বর্ডার, রাইস মিল ও বিভিন্ন গুদামে সার পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এসব জায়গায় সার থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, ‘যারা এই কাজটা করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। এখানে একটা সঙ্কট তৈরি করার জন্য।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সার সরবরাহ ও মজুদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তার আশা, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন প্রসঙ্গে আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষি খাতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশে কোন পণ্যের ঘাটতি রয়েছে, কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন এবং নতুন কী কী কার্যক্রম যুক্ত করা যায়—এসব বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও তিনি মতামত দিয়েছেন।