২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩০, ১৩ জিলহজ ১৪৪৫
`

বাংলাদেশের হারে ‘আইসিসির আইনকে’ কাঠগড়ায় তুললেন বিশ্লেষকরা

বাংলাদেশের হারে ‘আইসিসির আইনকে’ কাঠগড়ায় তুললেন বিশ্লেষকরা - ছবি : ইউএনবি

মাত্র চার রানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর আইসিসির আইন নিয়ে সমালোচনা করেন তৌহিদ হৃদয়। ম্যাচশেষে হতাশ কণ্ঠে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আইন তো আর আমার হাতে নেই।’

সোমবার (১০ জুন) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আম্পায়ারের একটি ভুল সিদ্ধান্তে চার রান পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় টাইগাররা। কাকতালীয়ভাবে ওই চার রানেই হেরেছে বাংলাদেশ।

ঘটনাটি সপ্তদশ ওভারের। ওটনিয়েল বার্টম্যানের একটি ডেলিভারি মাহমুদউল্লাহর প্যাডে লেগে পেছন দিয়ে সীমানা পার হয়ে যায়। তবে বল প্যাডে লাগার পর ফিল্ডারদের দুর্বল আবেদনেও আঙুল তুলতে দেরি করেননি আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিয়ে অবশ্য বেঁচে যান মাহমুদউল্লাহ। তবে ওই চার রান আর বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়নি।

আইসিসির নিয়ম অনুসারে, আম্পায়ার আউট দেওয়ার সাথে সাথে বলটি ডেড বল হিসেবে গণ্য হবে। ফলে চার রান থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। অথচ বলটি আউট ছিল না।

এই নিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ ঝেড়েছেন তামিম। তিনি বলেন,‘আইসিসি চাইলেই এই আইন পরিবর্তন করে বিতর্ক এড়াতে পারে।’

এই ধরনের পরিস্থিতিতে বলের গতিবিধি ও ব্যাটারদের রান নেয়া পর্যন্ত আম্পায়ার অপেক্ষা করতে পারেন বলে মত তার।

‘আপনার হাতে তো সময় আছে। আপনি চাইলেই ২ সেকেন্ড অপেক্ষা করে দেখতে পারেন, বল কোথায় যাচ্ছে, বাউন্ডারি হলো কি না। এসব দেখেও আপনি সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন।’

তামিমের মতে, ব্যাটসম্যান যদি আউট না হন, তাহলে ওই বলে হওয়া রান দেয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমার কথা হয়তো সমর্থকদের মতো শোনাচ্ছে। তবে চিন্তা করলে দেখবেন, ওই ৪ রান খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। ধারাভাষ্যকাররাও এটি নিয়ে কথা বলছিলেন।

‘আমি মনে করি, আইসিসি এ ব্যাপারে ভেবে দেখতে পারে। চাইলেই এটি এড়ানো সম্ভব। এমন নয় যে, খুব বড় কোনো পরিবর্তন করতে হবে তাদের।’

ক্রিকইনফোর ওই আয়োজনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বোলার মরনে মরকেলের কণ্ঠেও শোনা যায় একই সুর।

তামিমের কথায় সমর্থন দিয়ে তিনি বলেন,‘এমন হলে (পরিবর্তন) ফিল্ডাররাও বাউন্ডারি বা এক-দুই রানগুলো ঠেকানোর চেষ্টা করবে। খেলায় অবশ্যই কিছু একটা পরিবর্তন প্রয়োজন। আশা করছি, বিশ্বকাপের পর এটি নিয়ে ভাবা হবে।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের সাবেক পেসার ওয়াকার ইউনুসও এই নিয়মের সমালোচনা করেছেন।

আইসিসির নিয়মের বলি হয়ে বাংলাদেশের হারে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এলবিডব্লিউতে ডেড বলের বিতর্কিত নিয়মটির ব্যাপারে (আইসিসির) পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এ কারণে একটি অল্প রানের থ্রিলার ম্যাচ (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে) হেরে গেল বাংলাদেশ।’

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের অভিযোগে প্রথম সাড়া দেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এত টানটান একটি ম্যাচে আমাদের জন্য এটা একেবারেই ভালো কল ছিল না। আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন, কিন্তু এটা আমাদের জন্য বেশ খরুচে হয়ে গেল। এই চার রান পেলে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে যেতে পারত।’

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের একটি ভেন্যুতে যেখানে লো স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে, এই চার রান বা দুটি ওয়াইডের কল, যা আমাদের পক্ষে দেয়া হলো না এমন জায়গাগুলোতে (আম্পায়ারের) আরো উন্নতির জায়গা আছে।’

ক্রিকবাজের ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায়ও এ বিষয়টি নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার ও প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার সাইমন ডুল।

তিনি বলেন, ‘একবার ভাবুন তো, ফাইনাল ম্যাচে এমন কিছু হলো আর ভারত এর ভুক্তভোগী!

‘আমি জানি, খেলার নিয়ম পুরোপুরি বদলে ফেলা কঠিন। তবে এটা তেমন কোনো আইন নয়। কিছু একটা পরিবর্তন অবশ্যই দরকার।

‘ওই বল কোনোভাবেই স্ট্যাম্পে লাগত না, অথচ আম্পায়ার সাথে সাথে আঙুল তুলে দিলেন। এটা অনেকটা বন্দুকের ট্রিগারে চাপ দেওয়ার মতো। খুবই বাজে সিদ্ধান্ত ছিল।’

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষ প্রথম ম্যাচে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি হেরে খানিকটা পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এতে বাকি তিন দলেরই লাভ হয়েছে। শেষ আটে উঠতে তাই আগামী ১৩ ও ১৬ জুন যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।

সূত্র : ইউএনবি


আরো সংবাদ



premium cement