২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩০, ১৪ জিলহজ ১৪৪৫
`

সিদ্ধিরগঞ্জে মহাসড়কে আবারো ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা, চরম দুর্ভোগ

-

সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এবার দিনে নয় অনেকটা চুরি করে রাতের আঁধারে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এক দিকে দিনের বেলায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করছে হাইওয়ে পুলিশ অপর দিকে রাতের আঁধারে ময়লা আবর্জনা ফেলছে ময়লা সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, কে বেশি ক্ষমতাবান? ময়লা সিন্ডিকেট নাকি হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, পারিজাত, সানারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কের পাশে অহরহ ফেলা হতো ময়লা-আবর্জনা। নির্দিষ্ট ডাম্পিং থাকার পরও কেন মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা হতো তা নিয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানা গেছে, মূলত মহাসড়কের পাশে সওজের পরিত্যক্ত জমি দখলের কৌশল হিসেবে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ময়লা আবর্জনা ফেলত। নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর মহাসড়কের পাশে ময়লা অপসারণ শুরু করে হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ। কিন্তু এক দিকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে হাইওয়ে পুলিশ অপর দিকে রাতের আঁধারে গোপনে চুরি করে ময়লা ফেলছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। জানা গেছে, সাইনবোর্ড পারিজাতের সামনে এবং একটি বেসরকারি হাসাপাতালের সামনে দীর্ঘ দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছে একটি সিন্ডিকেট। স্থানীয় লোকজনের আপত্তির মুখে তারা ময়লা ফেলার কাজ চালিয়ে আসছে। সংবাদ প্রকাশের পর কিছু দিন থেমে থাকার পর এবং আবারো রাতের আঁধারে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দেয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পারিজাতের সামনে গভীর রাতে ফেলা হচ্ছে ময়লা। এক দিকে ময়লা ফেলার ভ্যান ময়লা ফেলছে। আর তাদের পাহারা দিচ্ছে কিছু দুষ্কৃতকারী। এদের ভয়ে ভুক্তভোগীরা কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। ভুক্তভোগী আলম শেখ জানান, ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে আমাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাইওয়ে পুলিশের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ দিনে হয়, আবার রাতে ময়লা সিন্ডিকেট আবারো ময়লার স্তূপ জমায়। রাতের আঁধারে অনেকটা চুরি করে ময়লা ফেলার কারণে এদের কেউ চিহ্নিত করতে পারে না।
মহাসড়কের পাশে একটি পেট্রল পাম্পের কর্মচারী তৌহিদ জানান, ময়লা অপসারণের পর যদি এখানে তারের বেড়া দিয়ে দেয়া হয় তাহলে হয়তো ময়লা ফেলা বন্ধ হতো। কিংবা কেউ যদি সবুজ বনায়নের জন্য গাছ লাগিয়ে দেয় তাহলে ময়লা ফেলা বন্ধ হতো। এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সওজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ভুক্তভোগীরা। হাসপাতলে রোগী নিয়ে আসা কাঁচপুর এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, মহাসড়কে পাশে প্রো-অ্যাকটিভ বৃহৎ হাসপাতাল। দূর-দূরান্ত থেকে এখানে রোগী নিয়ে আসা হয়; কিন্তু হাসপাতালের অদূরে বিশাল ময়লার ভাগাড়। এতে করে দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায়। অপর দিকে মশার উৎপাত বেড়েছে। মনে হচ্ছে হাসপাতালের সামনেই ডেঙ্গু মশার চাষ হচ্ছে। আরেকজন রোগীর স্বজন মিলন রহমান জানান, হাসপাতালের সামনে ময়লা ফেলা হচ্ছে কেউ দেখছে না। পরিবেশ অধিদফতরের কাজটা কী। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কী করে- ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। হাইওয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মহাসড়কের নিরাপদ যান চলাচলের জন্য সড়কের পাশে যাতে ময়লা ফেলতে না পারে সে জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাইওয়ের পাশে ফেলা দীর্ঘ দিনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেছে হাইওয়ে পুলিশ। গাজীপুর হাইওয়ে রিজওয়ানের পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এ ময়লা-আবর্জনা স্তূপ অপসারণ করা হয়। তবে রাতের আঁধারে আবারো ময়লা ফেলার বিষয়টি দেখা হচ্ছে।


আরো সংবাদ



premium cement