নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দলটির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা।
ফলে গত এক বছরে দলটির উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা।
ইসিতে নিবন্ধনের প্রথা ও আইনি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যথাযথ অডিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই হিসাব জমা দেয় দলের একটি প্রতিনিধিদল।
রোববার (১৯ জুলাই) আগারগাওস্থ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে এই হিসাবপত্র হস্তান্তর করা হয়। হিসাব জমাদান শেষে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
আয়ের প্রধান উৎস ও ব্যয়ের খাতসমূহ
রুহুল কবীর রিজভী জানান, নির্বাহী কমিটির চাঁদা, বইপুস্তক ও প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রয়, মনোনয়ন ফরম বিক্রয়, বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুদান এবং ব্যাংক থেকে অর্জিত সুদ ছিল আয়ের প্রধান উৎস।
অন্যদিকে, অর্জিত টাকা ব্যয় হয়েছে অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, পোস্টার ও লিফলেট ছাপানো, দলীয় প্রয়োজনে গাড়ি ক্রয়, জনসভা ও আলোচনা সভার হল ভাড়া, পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ, রমজানে ইফতার মাহফিল এবং অফিসের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খাতে।
আর্থিক স্থিতি
বিএনপির দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রারম্ভিক স্থিতি ২১ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫ টাকা। চূড়ান্ত উদ্বৃত্ত (ব্যাংকে গচ্ছিত) ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৮০ টাকা। হাতে নগদ ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। সর্বমোট স্থিতি ২৮ কোটি ৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৬০ টাকা।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতীক
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটি প্রতিপালন করেই এই হিসাব দেয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে অনুমোদনের পর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে এটি নিরীক্ষা করা হয়েছে।



