গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘১১ দল দায়িত্ব নিয়ে যেভাবে নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছে, দেশের স্বার্থে ত্যাগ ও সেক্রিফাইস করেছে, ঠিক তদ্রুপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার আদায়ে যেকোনো কঠিন থেকে কঠিন পথ অবলম্বন করতে আমরা কুণ্ঠিত হবো না, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, আমরা দেশের মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছি আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য নয়; বরং এ দেশের মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও গৌরব রক্ষার দাবি নিয়ে আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অভূতপূর্ব সমর্থন পেয়েছে। জনমানুষের রায়ের মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে
মামুনুল হক বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে এ দেশের মানুষ দ্বি-দলীয় শাসনব্যবস্থার যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে মানুষের ওপর জুলুম, নির্যাতন ও বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছিল। গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে জনগণের সম্মান ও মর্যাদা কেনা যায় না। বাংলাদেশের আত্মাভিমানি মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু তাদের সম্মান ও গৌরব কোনো স্বৈরাচারীর পায়ের নিচে পিষ্ট হতে দেয় না।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে ১১ দল প্রায় ১৮০ আসন পেতে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে বিভিন্ন মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা বন্ধ হয়ে যায় এবং রহস্যজনকভাবে ফলাফল পরিবর্তন করে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গণভোটে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর উচ্চকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা চলছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সংস্কার পরিষদ নিয়ে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। জনগণের সাথে প্রতারণা করে সরকার পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি সরকারের সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের সমালোচনা করে বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফর থেকে জনগণের জন্য দৃশ্যমান কোনো অর্জন আসেনি। শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক স্বার্থে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো: শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



