সেলিম উদ্দিন

তাদের নিজ দলের কৃতকর্মের জন্য অন্তত কয়েকবার ক্ষমা চাওয়া উচিৎ

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন |ছবি : নয়া দিগন্ত

যারা জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে বলে, তাদের নিজ দলের কৃতকর্মের জন্য অন্তত কয়েকবার ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করে ঘায়েল করা যাবে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, সংসদে নতুন কিছু মুফতি আবিষ্কার হচ্ছে, তারা জামায়াতে ইসলামী ইসলাম নয় বলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে, জামায়াতকে দুর্বল করা যাবে না। সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিয়ে জাতির সাথে মশকরা করা হচ্ছে। পলাতক শেখ হাসিনার সহযোগীদের কথায় চললে পরিণতি ভালো হবে না। হাসিনার পথে গেলে তার পরিণতিও ভালো হবে না।

একইসাথে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি পুরাতন রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। যেটা জামায়াত সংসদেও প্রশংসা করেছে।

মাদকবিরোধী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের অসাধু রাজনীতিকরা মাদকমুক্ত সমাজ চান না, কারণ মাদকমুক্ত হলে তারা কর্মী খুঁজে পাবেন না।

উত্তরার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মদের বার বন্ধ করতে হবে। তাহলেই উত্তরা নিরাপদ ও মাদকমুক্ত হবে।

তিনি জানান, এক মাসের মধ্যে ২৫টি ডিজিটাল অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে, যার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

তরুণদের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, সমাজের নেতৃত্ব দেয়ার কথা তরুণদের। কিন্তু বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি ও বিলাসিতার প্রবণতার কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা উচিত। ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় কোনো পরিবারের সন্তান মাদকাসক্ত হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলের পরিচালক ও মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ডা: ফখরুদ্দিন মানিক ও যুব বিভাগের সভাপতি ও মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত।

আরো উপস্থিত ছিলেন উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য জামাল উদ্দিন, উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী উত্তরের দফতর সম্পাদক তাহমিদ হুজাইফা, উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কমিশনার প্রার্থীবৃন্দ; ১নং ওয়ার্ড মাহফুজুর রহমান, ১৭নং ওয়ার্ড জাকির হোসেন, ৫১নং ওয়ার্ড সালাহউদ্দিন ভূইয়া, ৫২নং ওয়ার্ড মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, ৫৩নং ওয়ার্ড অ্যাডভোকেট সুরুজ্জামান, ৫৪নং ওয়ার্ড শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়াও উত্তরা অঞ্চলের থানা আমির, নায়েবে আমির ও সেক্রেটারিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।