ইসিতে বিএনপি, জামায়াতসহ ৩৮ দলের হিসাব দাখিল

সাড়া না দেয়া ৮ দলকে নোটিশ পাঠানো হবে : ইসি সচিব

‘ইসিতে বর্তমানে নিবন্ধিত মোট ৫৯টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এদের মধ্যে একটি দলের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।’

বিশেষ সংবাদদাতা
নির্বাচন ভবন
নির্বাচন ভবন |ফাইল ছবি

বিগত ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে ক্ষমতাসিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দল।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলগুলোর অডিট রিপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, কোনো সাড়া না দেয়ায় আটটি দলকে খুব শিগগিরই আইন অনুযায়ী নোটিশ পাঠানো হবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইসি সচিব এসব তথ্য জানান।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইসিতে বর্তমানে নিবন্ধিত মোট ৫৯টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এদের মধ্যে একটি দলের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বাকি ৫৮টি দলের মধ্যে ৩৮টি দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে দাখিল করেছে। এছাড়া ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বাকি আটটি দল ইসি বা নির্বাচন কমিশনের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি।

আইন অনুযায়ী কোনো সাড়া না দেয়া দলগুলোকে খুব শিগগিরই নোটিশ পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আইন সংশোধন

ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন সংশোধনের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা স্পষ্ট করার পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপির বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এই সুপারিশগুলো দ্রুতই চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও আগাম সময়সীমা

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সময়সীমা ব্যাখ্যার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য মূলত তিনটি প্রধান ধাপ পার হতে হয়। আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন, নির্বাচনী সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ।’

তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটের তারিখ পর্যন্ত সাধারণত ৪৫ দিনের ব্যবধান রাখা হয়। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে মুদ্রণে আরো প্রায় দেড় মাস সময়ের প্রয়োজন পড়ে। সে হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের জন্য অন্তত তিন মাসের একটি ব্যাকওয়ার্ড ক্যালকুলেশন বা আগাম প্রস্তুতি অপরিহার্য।’

পাশাপাশি, ভোটার তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবে গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের তথ্য নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।