টেকসই উন্নয়নের জন্য দুর্নীতিকে নির্বাসনে পাঠাতে হবে : দুদক সচিব

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ। টেকসই উন্নয়ন করতে দুর্নীতিকে নির্বাসনে পাঠাতে হবে। দুর্নীতি দমনে সক্ষম, কার্যকর ও জনমুখী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদককে গড়ে তুলতে চাই। এমন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে মানুষ দুদকের সেবার সুফল পায় এবং রাষ্ট্রের সম্পদ সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেস দুদক সচিব মো: সাইদুর রহমান খান
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেস দুদক সচিব মো: সাইদুর রহমান খান |বাসস

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতিকে নির্বাসনে পাঠাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো: সাইদুর রহমান খান।

আজ রোববার দুদকের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

সাইদুর রহমান বলেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ। টেকসই উন্নয়ন করতে দুর্নীতিকে নির্বাসনে পাঠাতে হবে। দুর্নীতি দমনে সক্ষম, কার্যকর ও জনমুখী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদককে গড়ে তুলতে চাই। এমন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে মানুষ দুদকের সেবার সুফল পায় এবং রাষ্ট্রের সম্পদ সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত হয়।’

দুদকের সচিব জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমে কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আলোচনা করবেন এবং প্রয়োজন হলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে দুদকের বিভিন্ন সংস্কার-সংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সেই রূপান্তরের অংশ হিসেবেই এখানে যোগ দিয়েছি। দুদককে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা ও দুর্নাম রয়েছে। আমরা চাই সেই ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে। প্রতিষ্ঠানটিকে আরো জনবান্ধব ও মানুষের আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সবাইকে নিয়ে কাজ করব।’

দুদকের নতুন কমিশন গঠনের বিষয়ে সচিব বলেন, সার্চ কমিটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কমিশন গঠন চূড়ান্ত হবে। খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিশন দায়িত্ব নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

দুদক সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে পরিচালিত হয় এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুদক কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অতীতে কী হয়েছে, তা নিয়ে মানুষের নানা মূল্যায়ন থাকতে পারে। তবে আমাদের লক্ষ্য হবে সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে দুদককে একটি নিরপেক্ষ, পেশাদার ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। আমরা ব্যক্তি বা সরকারের জন্য নয়, আইন ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই বলে আসছি, দুদকে একটি ইতিবাচক রূপান্তর আনার লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। সেই পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং জনগণ তা দেখতে পাবে।’

এ সময় দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মীর মো: জয়নুল আবেদীন শিবলী, উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো: আকতারুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো: তানজির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস