বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, ‘মাদকের বিষাক্ত ছোবলে যুবসমাজ জর্জরিত। শিশু-কিশোর, তরুণ যুব সমাজের পাশাপাশি নারীরাও মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ভয়াবহ ক্যান্সারের আকার ধারণ করেছে। কিন্তু মাদকের এই ব্যাপক বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণের জন্য যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করার দরকার ছিল বিগত দিনের সরকার সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং ক্ষেত্রবিশেষে তরুণ-যুবকদের হাতে মাদক ও অস্ত্র তুলে দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য তরুণ-যুবকদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।’
শুক্রবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত যুব র্যালিপূর্বক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শুক্রবার সকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য মাদকবিরোধী কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। মনে রাখতে হবে, আমাদের তরুণ যুবকেরা হচ্ছে আমাদের প্রাণশক্তি। এই সমাজ এবং রাষ্ট্রকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, যদি জুলাই চেতনা ধারণ করে আমাদের রাষ্ট্রকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হয়, যদি সুখি-সমৃদ্ধশালী বসবাসযোগ্য মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হয়, যদি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হয়, সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে হয়, তাহলে প্রাণঘাতী মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে হবে। আমাদের তরুণ-যুবকদের রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন স্তরে আমরা সম্পৃক্ত করতে না পারলে রাষ্ট্র তার পথ ও গতি হারাবে। বর্তমান সরকার উদাসীন হলে বিগত সরকারের অপকর্মের ধারাবাহিকতায় যুবসমাজ মাদকের ছোবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না।’
এসময় তিনি আরো বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জেলা পর্যায়ের কার্যালয়ে যেই জনবল রয়েছে তা দিয়ে একটা ওয়ার্ডের মাদক নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব নয়! অথচ পুরো জেলা চলছে! অর্থাৎ নামমাত্রে মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত বাস্তবে কিছুই না।’
তিনি বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে যেই মাদক আসে সর্বপ্রথম সেটি বন্ধ করতে হবে। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পুশইনের বিরুদ্ধে যেভাবে ভূমিকা রাখছে মাদকের বিরুদ্ধেও একই ভূমিকা রাখতে হবে। নতুবা মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’
‘যারা মাদক কারবারি এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু মাদক কারবারিরা নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে নেয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে সুযোগ তৈরি করে নেয়। বাংলাদেশের আনাছে-কানাছে এখন ওপেন মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে! এসব দেখার যেন কেউ নেই। এই মাদকের মাধ্যমে যুবসমাজের নৈতিক চরিত্র ধ্বংস হচ্ছে। মাদকের সিন্ডিকেট হাজার-হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই টাকার ভাগ কারা কারা পাচ্ছে জনগণ জানে এবং দেখে।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে জনবল বৃদ্ধিসহ মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নিতে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ‘মাদকবিরোধী যেকোনো কার্যক্রমে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’
সমাবেশ শেষে মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল যুবর্যালি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট চত্বর প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবন গিয়ে শেষ হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসেন ও শাহীন আহমেদ খান। এছাড়াও মহানগরী ও সকল সাংগঠনিক থানা দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ র্যালিতে অংশ নেন।



