বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচনে দেয়া ওয়াদা সততার সাথে, নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যে প্রচেষ্টা দৃশ্যমান, সবাই দেখছেন।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
জ্বালানি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, কিছু কিছু সঙ্কট হয়েছে বিভিন্ন কারণে, সেটার জন্য সরকার বা অন্য কোনো কিছু দায়ী নয়। সেটি হচ্ছে, এক ধরনের প্রাকৃতিক একটি সঙ্কট। ‘প্রাকৃতিক সঙ্কট’ ইন দ্য সেন্স যে আপনার যুদ্ধের কারণে আমাদের জ্বালানি সঙ্কট হয়েছে এবং আমাদের যে টার্মিনাল- যেখান থেকে গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ করা হয়, সেটি ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে। সেই কারণে এখন গ্যাসের চাপ কমে গিয়েছিল কয়েকদিন এবং বিভিন্ন এলাকার কলকারখানা বন্ধ থেকেছে, বাড়িতে বাড়িতে চুলা জ্বালানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গত পরশুদিন মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল, সেটার যে ত্রুটি হয়েছিল তা সম্পূর্ণরূপে সেরে ফেলা হয়েছে, ঠিক হয়ে গেছে। এলএনজি ভর্তি কার্গো ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ চলছে। আপনারা জানেন যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে গিয়েছিল, সেই চাপ আবার বৃদ্ধি পেয়েছে, লোডশেডিং অনেক কমে গেছে। সরকার নতুন করে প্রমাণ করেছেন, নতুন করে সেটি প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে তার আন্তরিকতার কোনো ত্রুটি ছিল না। এবং এই যে জ্বালানি সঙ্কট যেটি হয়েছিল, সেটি যে সরকারের কারণে নয়, সেটি দেশবাসী দেখেছে।
তিনি বলেন, এর মধ্যেও চক্রান্ত যে নেই তা না, চক্রান্ত আছে, ষড়যন্ত্র আছে। কিন্তু সেগুলোকে আইডেন্টিফাই করে, সেই চক্রান্তগুলোকে প্রতিহত করে এই সরকার জনকল্যাণে, সামাজিক সুরক্ষায় এবং অবকাঠামোগত যে উন্নয়নের ধারা- সেই ধারাটি তিনি অব্যাহত রেখেছেন। আমরা আশা করব এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
রিজভী বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে কাজগুলো করছেন, তার জবাবদিহিতা থাকবে। সেটি পার্লামেন্টে হতে পারে, সেটি নেতাকর্মীদের মধ্যেও সরকারের মন্ত্রীরা সেই জবাবদিহিতা করবেন সাধারণ নেতাকর্মীদের কাছে। এবং গণমাধ্যমে আপনারা যারা আছেন, আপনাদের মাধ্যমেও জবাবদিহিতা করছে সরকার; ইতোমধ্যে তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত সেটি রেখেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার গণভিত্তিক সরকার, জনকল্যাণের সরকার, সামাজিক সুরক্ষা নির্মাণের সরকার। এবং এই সরকার সমস্ত দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে যে অবকাঠামো নির্মাণ করছে, সেটিতে বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট আমলে সেটি দৃষ্টান্ত নয়; বরং ফ্যাসিস্ট আমলে যে ভয়াবহ মেগা দুর্নীতি হয়েছে মেগা প্রজেক্টের নামে, সেইখান থেকে আজকের যথার্থভাবে উন্নয়ন হতে যাচ্ছে, উন্নয়ন হবে। এবং সেখানে যত ধরনের নীতি-অনীতি হয়েছে, সব দুর্নীতির অবসান হবে। দুর্নীতিমুক্ত একটি উন্নয়ন পরিকাঠামো যে করা সম্ভব, করা যায়, একটি জনগণের কাছে দায়িত্বশীল সরকার যে সেটি করতে পারে- সেটি তারেক রহমানের সরকার দেখিয়ে দিচ্ছে এবং আগামীতে আরো তিনি সেটি দেখিয়ে দেবেন। এটি হবে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত।



