চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জামায়াতকে এগিয়ে যেতে হবে: গোলাম পরওয়ার

বর্তমান সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দল রোডমার্চসহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সাথে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

Location :

Saidpur
সৈয়দপুরে জামায়াতের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
সৈয়দপুরে জামায়াতের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সঙ্কট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করতে হবে এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আদর্শের চর্চা ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থেকে শনিবার (১৫ আগস্ট) পর্যন্ত নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক শিবির সভাপতি মো. দেলওয়ার হোসেন প্রমুখ।

১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দল রোডমার্চসহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সাথে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবার সুরক্ষা ও পরিবার গঠনের প্রতিও নজর দিতে হবে। নেতৃবৃন্দকে নিয়মিত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে পথ চলতে হবে।

মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, সংগঠনের মেজাজ ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। মেজাজ ও পরিবেশ ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন সব কাজ পরিহার করতে হবে। পরস্পরের দোষ-ত্রুটি ব্যক্তিগতভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। নিজেদের অহংকারমুক্ত রাখতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে সংগঠন ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে কাজ করতে হবে।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, তিন দিনের প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত শিক্ষা ধারণ করে আগামী দিনে সংগঠনকে আরও মজবুত, গতিশীল ও গণমুখী করতে হবে। বিগত নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের মানুষ জামায়াতের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে, কাজের মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ফ্যাসিবাদী আমলে শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত সংগঠনের বর্তমান অবস্থানকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে হবে।

শিক্ষাশিবিরে কোরআন-হাদিস অনুশীলন, বইপাঠ ও বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অঞ্চল টিম ও জেলা-মহানগরীর দায়িত্বশীলরা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য ফকীহ মাওলানা আব্দুল হাকিম।

নীলফামারী জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপির নেতৃত্বে নীলফামারী জেলা সংগঠন শিক্ষাশিবিরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।