রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রশিবিরের জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বশীলদের আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সোমবার (৩ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের পূর্বনির্ধারিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলাকালে সন্ধ্যায় ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে স্টল ভাঙচুর এবং নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করে। এতে সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক ও সাবেক শাখা সভাপতি সোহেল রানাসহ ছাত্রশিবিরের বেশ কয়েকজন জনশক্তি আহত হন। এর আগেও গত ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে হল প্রভোস্টের কক্ষে বৈঠক চলাকালে প্রভোস্টের সামনেই ছাত্রশিবির ও হল সংসদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভ্যুত্থান-পরবর্তী ধারাবাহিক এসব ঘটনা প্রমাণ করে, শিক্ষার্থী ও ভিন্নমতের প্রতি সহিংস আচরণ এবং শিক্ষক লাঞ্ছনা ছাত্রদলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ক্ষমতার দম্ভ ও অহংকারে ছাত্রদল আজ ফ্যাসিবাদী আচরণের পথেই হাঁটছে। তারা অতীতের সন্ত্রাসী ও সহিংস রাজনৈতিক ধারা থেকে বের হতে পারেনি। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নির্মম পরিণতি থেকেও ন্যূনতম শিক্ষা গ্রহণ না করে সেই একই সঙ্ঘাতমুখী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবির যখন শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ ও গঠনমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তখন ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘নিজস্ব শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি না থাকায় ছাত্রদল শিক্ষার্থী নির্যাতন, হামলা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে আলোচনায় থাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে বুয়েট শিক্ষার্থী সনি হত্যাকাণ্ড, নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন থেকে শুরু করে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তেজগাঁওয়ে কলেজ শিক্ষার্থী হত্যা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, নারী নির্যাতন ও শিক্ষক লাঞ্ছনার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, সহিংসতা ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি থেকে তারা এখনো সরে আসতে পারেনি।’
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসাথে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।



