জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি

বিএনপি যাদেরকে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী করেছে তারা পাকিস্তানের লোক ছিলেন : গোলাম পরওয়ার

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি। দাবিগুলো হলো— জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, শহীদ ওসমান বিন হাদির...

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় |নয়া দিগন্ত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একইসাথে তিনটি প্রধান দাবিও জানিয়েছে এই রাজনৈতিক দলটি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন ও কর্মসূচি ঘোষণ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ও দাবি জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আরেকটা কনফিউশন বিএনপির মহাসচিব আবার জাতির কাছে মাঝে মাঝে দেন। উনারা বলেন যে জামায়াতের ওপর সরকার সন্তুষ্ট। আমি পরিষ্কার করি, উনারা প্রশ্ন করেন, পার্লামেন্টে প্রশ্ন করেন—৭১-এর ভূমিকা অমুক দলের কী ছিল, তমুক দলের কী ছিল। এই পাকিস্তানের সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক রাজনৈতিক দল ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য কিভাবে ভূমিকা পালন করেছিল। সেখানে পছন্দ হতে পারে বা না পারে, সেটা রাজনীতির বিতর্কের বিষয় হতে পারে। কিন্তু যে ভাষায় বাইরে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে আমাদেরও তো প্রশ্ন আছে। সেই জবাবটা তো বিএনপিকে দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরেই স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তত যাদেরকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন, রাষ্ট্রপতি করেছেন, মন্ত্রী করেছেন—তারা তো পাকিস্তানের লোক ছিলেন। কেন করেছিলেন, সেই জবাব দেন।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, ‘২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সাথে মতবিনিময়, জুলাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে।

এছাড়া ১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারা দেশে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সাথে মতবিনিময়, স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। ১ আগস্ট মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করবে দলটি। ১ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশের জেলা, মহানগর ও উপজেলায় ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া মহিলা বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের উদ্যোগে গৃহীত কর্মসূচিতেও অংশ নেবে দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি। দাবিগুলো হলো— জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।