বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ৮ শতাংশের বেশি বরাদ্দ দিতে হবে : সেলিম উদ্দিন

‘জনগণের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে আট শতাংশের বেশি বরাদ্দ দিতে হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Dhaka City
মহানগর উত্তর জামায়াতের মেডিক্যাল শাখার মানববন্ধনে সেলিম উদ্দিন
মহানগর উত্তর জামায়াতের মেডিক্যাল শাখার মানববন্ধনে সেলিম উদ্দিন |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘জনগণের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে আট শতাংশের বেশি বরাদ্দ দিতে হবে।’

রোববার (৭ ‍জুন) সকালে মহানগর উত্তর জামায়াতের মেডিক্যাল শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের অপচেষ্টার প্রতিবাদে এবং স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মহানগর উত্তর মেডিক্যাল বিভাগের আমির ডা: এস এম খালিদুজ্জামানসহ চিকিৎসক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আমলে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে একেবারে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। ফলে সেই সময় স্বাস্থ্যখাতের রথী-মহারথীরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। পর্দা ও বালিস কাণ্ড এসবের প্রমাণ বহন করে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতনের পরও সে অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বরং স্বাস্থ্যখাতের লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এখনো অতীত বৃত্তেই রয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ খাতে ফ্যাসিবাদের প্রতিভূরা এখনো সক্রিয়। তাই দেশের স্বাস্থ্যখাতকে এ রাহুর হাত থেকে বাঁচাতে সরকারকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা সময়ের দাবি।’

তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতকে সর্বাধুনিক করে গড়ে তুলতে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাত এখন দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের অভয়ারণ্য। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ থাকলেও লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোতে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ করা ওষুধ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানাধীন ফার্মেসিতে চলে যাওয়ায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।’

সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনায় না নিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় চিকিৎসকদের বদলি এখন স্বাস্থ্যখাতর মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পাচ্ছেন না। নিয়োগ বাণিজ্যও এখন গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে।’

স্বাস্থ্যখাতের এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের লড়াই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে রাহুমুক্ত করা যাবে না।’