আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন কেন অনন্য

একটি দাতব্য সংস্থা যখন ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চরিত্র গঠনের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেয়, তখন সেটি নিঃসন্দেহে অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে ওঠে। আর সেই দৃষ্টান্তই স্থাপন করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।

বেলায়েত হুসাইন
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ‘মিডিয়া কানেক্ট সামিট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ‘মিডিয়া কানেক্ট সামিট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে |নয়া দিগন্ত

সচারাচর দাতব্য সংস্থাগুলোর কাজ বলতে আমরা বুঝি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসহায়তা দেয়া কিংবা দরিদ্রদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম দক্ষতার সাথে পরিচালনার পাশাপাশি আরেকটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সেটি হলো—তরুণ-তরুণীদের কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল মানবসম্পদে পরিণত করা।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে ‘মিডিয়া কানেক্ট সামিট’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ। পাশাপাশি অনুষ্ঠানটির আগে ও পরে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক অতিথিদের আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টারও পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। অতিথিরা এর মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের বিরাট এ কর্মযজ্ঞ স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ফাউন্ডেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি খাতের ১৪টি কর্মমুখী কোর্স পরিচালনা করছে। সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়মিত নতুন কোর্সও যুক্ত হচ্ছে এর সাথে। এখানে মোবাইল রিপেয়ারিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ও সফটওয়্যার-সম্পর্কিত দক্ষতা, নারী স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের বাস্তব ফলও ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ১৭৯ জন তরুণ-তরুণীকে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ করার এক বছরের মধ্যেই তারা সম্মিলিতভাবে ৪২ কোটিরও বেশি টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ, দাননির্ভর সহায়তার পরিবর্তে মানুষকে আয় করার সক্ষমতা তৈরি করে দেয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছর এক লাখ বেকার তরুণ-তরুণীকে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে এই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, এখানে শুধু পেশাগত দক্ষতাই শেখানো হয় না; প্রশিক্ষণার্থীদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষাও অত্যন্ত যত্নসহকারে দেয়া হয়। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, দায়িত্ববোধ, কর্মনৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। ফলে একজন প্রশিক্ষণার্থী শুধু দক্ষ কর্মী হিসেবেই নয়, নৈতিকভাবে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পান।

একটি দাতব্য সংস্থা যখন ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চরিত্র গঠনের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেয়, তখন সেটি নিঃসন্দেহে অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে ওঠে। আর সেই দৃষ্টান্তই স্থাপন করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।