সাংস্কৃতিক খাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ আইন-কানুন সংশোধনের পাশাপাশি দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

দ্বীন মোহাম্মাদ দুখু
ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলার শিল্পী ও সাংস্কৃতিকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম
ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলার শিল্পী ও সাংস্কৃতিকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম |নয়া দিগন্ত

দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও আইনি জটিলতা দূর করে পুরো খাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ আইন-কানুন সংশোধনের পাশাপাশি দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলার শিল্পী ও সাংস্কৃতিকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতির পরিধি ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি শুধু সঙ্গীত, নৃত্য বা নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি জাতির সামগ্রিক জীবনধারা। মানুষের কথা বলা, চলাফেরা, পোশাকের ধরন, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পিঠাপুলিসহ জীবনযাপনের নানা বিষয়ই সংস্কৃতির অংশ। সঙ্গীত ও নাটক এর দৃশ্যমান অংশমাত্র।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট সংস্কৃতি নীতি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যমান অনেক আইন-কানুন পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ। এসব সমস্যা দূর করতে আইন-কানুন সংস্কারের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনগুলোতে তা পাস করার লক্ষ্য রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি ও সাংস্কৃতিক মিলনায়তনের বেহাল দশার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকা থেকে সিলেট, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।

শিল্পকলায় কর্মরত প্রশিক্ষকদের স্বল্প বেতনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক প্রশিক্ষক মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের প্রায় ২০টি জেলায় আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কমপ্লেক্সে আধুনিক হল, সিনিপ্লেক্স, ফুড কোর্ট ও খেলার মাঠ থাকবে। পাশাপাশি ২৫০টি উপজেলায় নতুন শিল্পকলা একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজবাড়ীতে আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাংশায় নতুন শিল্পকলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া গোয়ালন্দের পদ্মার চরে প্রায় আট কিলোমিটার বদ্ধ জলাশয়কে ঘিরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘কালচারাল হাব’ গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। রাজবাড়ী শহরের রেলের মাঠে স্টেডিয়াম নির্মাণ, হোসেন মহল ভেঙে কালচারাল কমপ্লেক্স ও জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাবও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জমিতে একটি বৃহৎ ‘কালচারাল হাব’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলেও জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী। সেখানে সিনেমা হল, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হোটেল ও পার্কসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক সুবিধা থাকবে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরেও নতুন কর্মসূচির কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় কবিকে যথাযথ মর্যাদা দিতে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামী ২৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা আরো বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, আইন সংস্কার এবং সমন্বিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক খাতকে দ্রুত একটি শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে।