জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতবৃন্দ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীবৃন্দ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তারা এ বিজয়কে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মর্যাদা এবং বহুপক্ষীয়তার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এ বিজয় লাভে ড. খলিলুরকে অভিনন্দন জানিয়ে আসন্ন ইউএনজিএ অধিবেশন সফলভাবে পরিচালনার জন্য শুভকামনা জানান।
এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করও অভিনন্দন জানিয়ে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন।
নিজের ভেরিফাইড এক্স অ্যাকাউন্টে দেয়া বার্তায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন।’
অভিন্ন লক্ষ্য অর্জন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে ড. খলিলুরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
চীন বলেছে, এ নির্বাচন বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা এবং বহুপক্ষীয়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে দেশটির গঠনমূলক ভূমিকার প্রতিফলন।
অভিনন্দন বার্তায় চীন আশা প্রকাশ করেছে যে, ড. খলিলুর সব সদস্য রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করবেন, সার্বভৌম সাম্যের নীতি সমুন্নত রাখবেন, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষা করবেন এবং সংলাপ ও পরামর্শ জোরদার করার পাশাপাশি বহুপক্ষীয়তার ভিত্তি আরো মজবুত করবেন।
চীন পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, নির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমানকে তার দায়িত্ব পালনের সময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে।
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানান।
এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আমার প্রিয় ভাই ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন।’
তিনি বলেন, ‘তার (ড. খলিলুর) সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি নিশ্চিত, তার ব্যাপক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বহুপক্ষীয়তার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পরিষদকে সুযোগ্য নেতৃত্ব দেবে।’
ইসহাক দার আরো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, তিনি বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, অভিন্ন বৈশ্বিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং সংলাপ, শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখবেন।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু জাতিসঙ্ঘে ড. খলিলুরের নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশ ও বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।
অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে আপনার সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করছি।’
ড. খলিলুরের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ তার নেতৃত্বে সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরো বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জনগণ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত।’
আফ্রিকান ইউনিয়ন ইউএনজিএ’র সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের জন্য বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে ড. খলিলুরকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
এক্সে দেয়া বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, ‘ড. রহমানের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের উপস্থিতি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাবে।’
আফ্রিকান ইউনিয়ন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি জোরদারে ড. খলিলুরের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা ব্যক্ত করেছে।
গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদরদফতরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটের ভোটে ড. খলিলুর রহমান ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।
মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে তিনি পান ৯৯টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পান ৯১ ভোট।
এ বিজয়কে বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি দেশের নেতৃত্ব এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হলে ড. খলিলুর আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বাসস



