ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদকাসক্ত। এর বড় অংশই তরুণ। দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি মাদকের শিকার হচ্ছে।’
যুব উন্নয়ন সংসদের উদ্যোগে ‘সামাজিক প্রতিরোধ, আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও সচেতনতা : মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে যৌথ প্রয়াস’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হল রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। কর্ণেল (অব.) আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. যুবাইর।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক যুবাইর বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদকাসক্ত। এর বড় অংশই তরুণ। এই সংখ্যা দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান আরো ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। মোট মাদকাসক্তদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী রয়েছে ৩৬ শতাংশ এবং ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি মাদকের শিকার হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে ইয়াবা দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ১৩ কোটি পিস ইয়াবা জব্দ করেছিল। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই কোটি পিস। আর ২০২৪ সালে জব্দ হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৩৬ লাখ পিস। তবে জব্দের পরিমাণ কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে মাদক পাচার কমেছে। এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের তীব্রতা কমে যাওয়ার ফলও হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় অনেক পরিবার অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বিত্তশালী হয়ে উঠছে। দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও বাড়ি, গাড়ি ও বিলাসী জীবনযাত্রা তৈরি হচ্ছে। অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, তাদের অনেকেই ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। এটি শুধু অবৈধ সম্পদ সৃষ্টি করছে না, একইসাথে সমাজে অপরাধের সংস্কৃতিও বিস্তার করছে।’
সভাপতির বক্তব্যে কর্ণেল (অব.) আব্দুল হক বলেন, ‘মাদকের সূত্রপাত হচ্ছে সিগারেট। অথচ এই সিগারেটই সরকার বাংলাদেশে বন্ধ করতে পারেনি।’
মাদক কিভাবে বন্ধ করবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘পুরো জাতির ম্যাক্সিমাম লোক মাদকাসক্ত। তিনি বলেন, মাদক এমনি-এমনি নির্মূল হবে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত, সেখানে মাদক নিমূর্ল সম্ভব নয়। এজন্য আগে দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে হবে।’
যুব উন্নয়ন সংসদের সদস্য সচিব ড. মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেত ভিসি অধ্যাপক নকিব নাসরুল্লাহ, যুব উন্নয়ন সংসদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মো: কামাল হোসেন এমপি, ডাকসু ভিডি সাদিক কায়েম, ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ, যুব উন্নয়ন সংসদের সদস্য প্রফেসর ডা: মোয়াজ্জেম হোসেন, শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা: আতিয়ার রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম।
এছাড়াও সেমিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



