ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

‘অনুসন্ধানে শেখ মামুন খালেদের নামে চার কোটি ৫৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় তিন কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬৩ টাকা। ফলে তার নামে এক কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) |সংগৃহীত

ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ (অবসরপ্রাপ্ত) ও তার পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন শেখ মামুন খালেদের স্ত্রী নিগার সুলতানা ও তার শ্যালক শেখ আমিনুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো: আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, অনুসন্ধানে শেখ মামুন খালেদের নামে চার কোটি ৫৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় তিন কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬৩ টাকা। ফলে তার নামে এক কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

নিগার সুলতানার নামে এক কোটি আট লাখ ৪৭ হাজার ৭৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। তার গ্রহণযোগ্য আয় এক কোটি ২৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯১১ টাকা এবং পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ টাকা। ব্যয় বাদে সম্পদ অর্জনের জন্য তার সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৭২ হাজার ৯৪২ টাকা। এ হিসাবে তার নামে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

অপরদিকে, শেখ আমিনুর রহমানের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ১০ কোটি ৪২ লাখ নয় হাজার ১২৩ টাকা। তার গ্রহণযোগ্য আয় পাঁচ কোটি ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৮ টাকা এবং পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় দুই কোটি ৪২ লাখ চার হাজার ৬১৬ টাকা। ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৩ টাকা। ফলে তার নামে পাঁচ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

দুদকের অনুসন্ধানে নিগার সুলতানা ও শেখ আমিনুর রহমানের আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে প্রদর্শিত যথাক্রমে ৪০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩০ টাকা ও ছয় কোটি আট লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ টাকার আয় গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি। রেকর্ডপত্র যাচাই ও পরিদর্শনে এসব আয়ের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এছাড়া শেখ আমিনুর রহমানের পূর্ববর্তী সঞ্চয় হিসেবে প্রদর্শিত এক কোটি তিন লাখ ৮৮ হাজার ৩৯০ টাকারও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি।

দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল তিনটি মামলা দায়ের করেন। বাসস