দেশে ডিজিটাল মাধ্যমে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার বিস্তার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার নেটওয়ার্ক ও আর্থিক প্রতারণা নিয়ন্ত্রণে পুরনো ১৮৬৭ সালের ঔপনিবেশিক আইন বাতিল করে সময়োপযোগী ও কঠোর শাস্তিবিধান সম্বলিত এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিনের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে বিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরনো হওয়ায় বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় তা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনি কাঠামো যথেষ্ট ছিল না।
বর্তমান সময়ে ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে সংঘটিত অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন আইনে অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া, অনলাইন বেটিং (স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিংসহ), ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ঘোস্ট সিম এবং ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসাথে জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশী অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যাজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া, জুয়ার সরঞ্জাম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, বিজ্ঞাপন প্রচার ও স্পনসরশিপও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনে এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। মামলার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলে বিধান রাখা হয়েছে।



