এস আলমের গাড়িতে সংবর্ধনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমার চারটি গাড়ি আছে, খুব একটা গরীব মানুষ না

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেটা কোনো ব্যক্তির নামে গাড়ি না। ১৭-১৮ বছর আগের একটি গাড়ি। তারপরও যদি সেটা ভুল হয়ে থাকে, আমি জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছি। বিষয়টি তখনই পরিষ্কার হয়ে গেছে। এটা একটা পুরোনো ইস্যু।’

সংসদ প্রতিবেদক

ভারত থেকে দেশে ফেরার পর আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকায় যাওয়ার বিষয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার রাতে সংসদে এক আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নুন খেয়ে’ কিছু করছেন।

পরে নজিবুর রহমানের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নজিবুর রহমানের ‘সেন্স অব হিউমার’-এর জন্য তিনি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেননি।

ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর কক্সবাজারে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল। সে সময় বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে যখন আমি গিয়েছি, লক্ষ লোকের সমাবেশ হয়েছিল। কোনো গাড়ি বিমানবন্দরে ঢোকার সুযোগ পায়নি। অনেক মাইক্রোবাস ছিল। একটাতে উঠলাম, সেখানে জায়গা হলো না। আরেকটাতে উঠলাম। পরে সমর্থকেরা আমাকে আরেকটি গাড়িতে উঠিয়ে দেয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, পরে তিনি জানতে পারেন যে গাড়িটি বহু পুরোনো এবং সেটি নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার বাস্তব ভিত্তি নেই।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেটা কোনো ব্যক্তির নামে গাড়ি না। ১৭-১৮ বছর আগের একটি গাড়ি। তারপরও যদি সেটা ভুল হয়ে থাকে, আমি জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছি। বিষয়টি তখনই পরিষ্কার হয়ে গেছে। এটা একটা পুরোনো ইস্যু।’

নিজের আর্থিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার চারটি গাড়ি আছে, আমার চারজন ড্রাইভার আছে। খুব একটা গরীব না।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নজিবুর রহমানের উত্থাপিত মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে এবং পুরোনো একটি প্রসঙ্গ আবার টেনে আনা হয়েছে।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সংসদের কার্যবিবরণীতে অসংসদীয় কোনো বক্তব্য থেকে থাকলে তা বিধি অনুযায়ী বাদ দেয়া হবে।