ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেখান থেকে মিছিলটি দৈনিক বাংলা-পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবৈধ চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, ব্যাংক লুটপাটে জড়িতদের বোর্ড থেকে অপসারণ, ব্যাংক রেজুলেশন এক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলমের দখলকৃত সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থ ফেরত আনা, এস আলমকে কোনো ব্যাংকে ফিরতে না দেয়া এবং ব্যাংক লুটকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
এর আগে সোমবার একই দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে ৩০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক গ্রাহক আহত হয়। তবে পুলিশের আক্রমণের শিকার হয়েও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা পিছু হটেনি। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের সামনে সাত দফা দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহবায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সরকার এমন একজনকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়িছেন যিনি দুর্নীতি, অনিয়মের দায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থাকাকালীন খুরশীদ আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে নিজের স্ত্রীর নামে মোটা অংকের ঋণ নিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করেননি। সেই খেলাপি ঋণের তিনি ছিলেন গ্যারান্টার। ঋণ খেলাপি বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নরকে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের সহযোগী খুরশীদ আলমকে পুরস্কার স্বরূপ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তিনি (খুরশীদ আলম) ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সাথে সাথে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে এস আলমকে ৫৪৪ কোটি টাকা লুটের বন্দোবস্ত ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে! জনগণের আমানত লুটপাটের মহোৎসবে মেতে উঠেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, ব্যাংক লুটেরা এস আলমের উত্তরসূরি খুরশীদ আলমসহ ইসলামী ব্যাংকে থাকা এস আলমের অনুসারীরা। ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের অর্থনীতি রক্ষা করতে সাত দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবানও জানান তিনি।



