ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিচারিক কার্যক্রম গতিশীল করতে গত জুলাই মাসে বিশেষ তৎপরতা চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই সময়ে ডিএমপির বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো মোট ৯,৩০৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এর মধ্যে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে ৫,৮৯০টি এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা রয়েছে ৩,৪১৭টি।
সোমবার (৩ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ডিএমপির আইন কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আতাউল হক জানিয়েছেন, জুলাই মাসে ডিএমপির মতিঝিল, তেজগাঁও, ওয়ারী, গুলশান, মিরপুর, রমনা, লালবাগ ও উত্তরা বিভাগে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাসব্যাপী পরিচালিত এই সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১০,৪৩৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ৬,৮৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলাগুলো থেকে মোট ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ১২০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নিলাম ও বাজেয়াপ্ত কার্যক্রম থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে আরো ২ লাখ ৫৮ হাজার ২৩০ টাকা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাসজুড়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীতে মোট ৩৩টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিল কর্তৃপক্ষ। জুলাই মাসে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর অধীনে নতুন করে ১,৩৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আগের মামলাসহ মোট ৩,৪১৭টি ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি করেছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। এসব ট্রাফিক মামলা থেকে জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৭০০ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার মহানগরবাসীর মধ্যে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সাথে দ্রুত সাজা প্রদানের ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হচ্ছে, যা রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।



