লাইসেন্স বাতিল করায় রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালটির বিভিন্ন ইউনিটের মতো কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস সেবাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ডায়ালাইসিস সেবা না পেয়ে কামাল মিয়া (৫০) নামের এক কিডনি রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের দেয়া তথ্যমতে, শনিবার (১৩ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কামাল মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
ডায়ালাইসিস সেবা না পেয়ে মারা যাওয়া কামাল মিয়া ঢাকার খিলগাঁও সিপাহীবাগ এলাকার উত্তর গোড়ানের আদর্শবাগের বাসিন্দা ছিলেন।
মৃতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কামাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তিনি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে আসছিলেন। শনিবার তার পূর্বনির্ধারিত শিডিউল ছিল হাসপাতালটিতে। আদ্-দ্বীনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও পূর্বনির্ধারিত শিডিউল হওয়ায় সেখানে যোগাযোগ করা হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেবা বন্ধ থাকার বিষয়টি জানিয়ে সরকারনির্ধারিত ৬ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে অন্য হাসপাতালে নেয়ার আগেই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
কামাল মিয়ার স্ত্রীর আত্মীয় ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, কামাল মিয়া ও তার শ্যালক দুজনেই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছিলেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য আদ্-দ্বীন হাসপাতালটি ছিল আশীর্বাদের মতো। আজ ঢাকার অন্য কোনো করপোরেট হাসপাতালে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ডায়ালাইসিস করানোর মতো সামর্থ্য এই পরিবারের ছিল না। চোখের জল মুছতে মুছতে কামালের স্ত্রী এখন একটাই প্রশ্ন করছেন—টাকার অভাব আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জেদের কারণে অকালে চলে গেল তার স্বামী। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের দেয়া চরম শাস্তির ফলে আরো দুই শিশু এতিম হয়ে গেল, এই মৃত্যুর দায় এখন কে নেবে? লাইসেন্স বাতিলের নামে একটি চালু হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়ে গরিবের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়ার এই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত কি আক্ষরিক অর্থেই একটি হত্যাকাণ্ড নয়? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানান।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের ডায়ালাইসিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো ডায়ালাইসিস না হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটতে পারে। এক হাসপাতালের কিডনি রোগীকে ডায়ালাইসিসের জন্য হঠাৎ অন্য কোনো হাসপাতালে চাইলেও স্থানান্তর করা যায়নি। কারণ ওই হাসপাতালে শিডিউল মেলানো, রোগীর নতুন করে পরীক্ষা-নীরিক্ষাসহ জটিলতাসহ প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দেয়।



