বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর হাতে শারীরিক লাঞ্ছনা, মারধর ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জনতা ব্যাংক পিএলসির এক কর্মকর্তা।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ২৩ আগস্ট (রোববার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর এবং বরিশাল বন্দর থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আ: রাজ্জাক মোল্লা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী তাকে মারধর ও চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযুক্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম শাওন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অনিক এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইশরাক।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট (বুধবার) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা আ: রাজ্জাক মোল্লা তার এক বান্ধবীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের পাশের মেরিন অ্যাকাডেমি রাস্তায় ঘুরতে যান। এ সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ঐ তিন শিক্ষার্থী তার পরিচয় জানতে চান। তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের লোক হিসেবে পরিচয় দিলে অভিযুক্তরা তার বিরুদ্ধে ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডের’ মিথ্যা অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী রাজ্জাক মোল্লা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মাথায়, মুখে ও বুকে ঘুষি মারেন এবং তার বান্ধবীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের করতে ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সোনালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে যাওয়া হয়। বুথে তার ব্যবহৃত কার্ড কাজ না করায়, পরবর্তীতে ৩ নম্বর গেটের বিপরীত পাশের একটি বিকাশ দোকান থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে জোরপূর্বক টাকা উত্তোলন করিয়ে নেয় অভিযুক্তরা।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তদের এই ব্যাংক বুথে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আ: রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পাশের রাস্তায় ঘুরতে গিয়ে এমন নৃশংস হামলা ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আমি চরম আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এটি আমার জন্য শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিকর।’
ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শাওন ক্যাম্পাসের আশেপাশে কাপল ধরে বেড়ায়, এটা জানি। কিন্তু বাকিরা তেমন কিছু একটা করে না। নতুন নতুন শুরু করছে মনে হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা তাদেরকে নদীর পাড়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরেছি এবং পরে তাকে বাইকে করে ক্যাম্পাসের সামনেও দিয়ে গেছি। যে অভিযোগ করেছে তার ভিত্তিতে আমি বলব ক্যাম্পাসের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করার জন্য, তাহলেই সত্যিটা জানতে পারবেন।’
ইশরাক ও অনিককে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় ঘুরতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ করতে এসেছেন ভুক্তভোগী। আমরা আপাতত প্রাথমিক অভিযোগ নিচ্ছি, পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।



