সিকৃবিতে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ, ভিসির অপসারণ দাবিতে মানবন্ধন

‘যারা পদত্যাগ করেছেন তারা কেউই তাদের মূল পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। ১১টি পদে মোট নয়জন শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্বের পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের দায়িত্বের মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হওয়ায় আমি এক্সটেনশনের সুযোগ দিয়েছিলাম।’

ভিসির অপসারণ দাবিতে মানবন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি
ভিসির অপসারণ দাবিতে মানবন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি |নয়া দিগন্ত

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে নয়জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন পদত্যাগকরী শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলের প্রভোস্ট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার, শরীরচর্চা বিভাগের পরিচালক ও দু’টি গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ।

পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তারা আরো বলেন, রাজস্ব খাতের অর্থে করা কিছু কাজে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তারা।

এদিকে একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানবন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। কর্মসূচি থেকে ভিসির অপসারণের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের একটি পক্ষ এসব অভিযোগ তুলেছেন। এটি ভিত্তিহীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যাদের নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে তারা সকলেই যোগ্য প্রার্থী ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা পদত্যাগ করেছেন তারা কেউই তাদের মূল পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। ১১টি পদে মোট নয়জন শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্বের পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের দায়িত্বের মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হওয়ায় আমি এক্সটেনশনের সুযোগ দিয়েছিলাম। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার জন্য চিঠিও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা দায়িত্বে আর থাকবেন না জানিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।