শিক্ষা ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে না ফেরায় চাকরিচ্যুত হাবিপ্রবির ১৪ শিক্ষক

শর্ত অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে ছুটিকালীন বেতন সুদসহ ফেরত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতোমধ্যেই চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা কয়েক কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

রাফিউল হুদা, হাবিপ্রবি
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

শিক্ষা ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে না ফেরায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৪ জন শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০০৪-এর ৪.১-এর এফ ধারা মোতাবেক তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে ছুটিকালীন বেতন সুদসহ ফেরত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতোমধ্যেই চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা কয়েক কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। যারা এখনো ছুটিকালীন বেতন ফেরত দেননি তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া আরো চারজন শিক্ষককে নোটিশ দেয়া হয়েছে। যথাযথ জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের অডিট আপত্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক পাওনা ছুটিকালীন বেতনসমূহ ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় পাওনা টাকা আদায়ের জন্য Public Demand Recovery (PDR) আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩৯২ জন। এর মধ্যে ৬৯ জন উচ্চতর ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ জন বিদেশে ও ১৭ জন দেশে অবস্থান করছেন। শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অন্তত ১৮ জন শিক্ষক দেশে ফেরত আসেননি।

দেশে না ফেরার কারণ হিসেবে অনেক শিক্ষক বিদেশে স্থায়ী চাকরি বা গবেষণায় যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে কেউ দেশে ফেরেননি— এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসান বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন শিক্ষা ছুটি শেষে শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে। যারা নিয়ম অনুযায়ী দেশে ফেরেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষকরা বিদেশে জ্ঞান অর্জন করে দেশে এসে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দিক। এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান আরো বৃদ্ধি পাবে।’