যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভাড়া নেয়া বিআরটিসি বাস ও একটি মালবাহী নসিমনের সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান (৫০) নামে নসিমন চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নসিমন চালক রুবেল হোসেন খোকনকে (৩৫) গুরুতর আহত অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যশোর শহরের পোলতাডাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাফিজুর রহমান যশোর চৌগাছা উপজেলার মাঠচাকলা গ্রামের জামাত আলীর ছেলে এবং গুরুতর আহত রুবেল হোসেন খোকন একই গ্রামের খায়রুলের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ছেড়ে আসা যবিপ্রবির কাঠমালতি বিআরটিসি বাসটি পোলতাডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে একটি বালবাহী নসিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের সাথে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এসময় নসিমন চালক হাফিজুর রহমান ও তার সহকারী রুবেল হোসেন খোকন গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফিজুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো: হামিদুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় নেয়া বিআরটিসি একতলা বাসের সাথে একটি নসিমনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, সড়ক পার হওয়া একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে নসিমন চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যবিপ্রবির বিআরটিসি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় নসিমন চালক গুরুতর আহত হন এবং তার সহযোগী নিহত হন।
এ বিষয়ে জানতে বিআরটিসি বাসের ইনচার্জ শমসেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাস দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে খুলনা জোনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিটনেসবিহীন বাস সরবরাহের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের কোনো গাড়িই ফিটনেসবিহীন নয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির সামনের অংশে আগে থেকেই একটি ঢাকনা লাগানো ছিল, যা দুর্ঘটনার পর আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙা দেখা যাচ্ছে। আমরা কখনোই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি সরবরাহ করি না।
দুর্ঘটনায় জড়িত বাসচালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনো চালকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



