সরকারি কর্মকর্তার সীল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো: বাবলু কাজীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।
শনিবার ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, শুক্রবার ঢাকা মহানগরের পল্লবী থানাধীন মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি ওয়ারী সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার বাবলু কাজী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সেজে উপ-সচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে আসছিলেন। গত ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার ভুক্তভোগী মো: সবুজ সরকারের কাছ থেকে চাকরির ভুয়া আশ্বাস দিয়ে চক্রটি ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
গ্রেফতারের সময় বাবলু কাজীর কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সীলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষরিত ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং নকল হাজিরা খাতা উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত চতুর ও সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণা করত। সাধারণ মানুষের সমাগম বেশি এমন সরকারি অফিসগুলোকে তারা টার্গেট করত। চক্রের একজন সদস্য নিজেদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং অন্যরা ড্রাইভার বা অফিস সহকারী পরিচয়ে সরকারি অফিসে অবাধে বিচরণ করত। এতে চাকরিপ্রার্থীরা সহজেই তাদের বিশ্বাস করতেন।
বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি কোনো পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলত। তারা ভুক্তভোগীদের বলত, চাকরিতে যোগদানের পর টাকা দিলেই হবে। পরে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন হাতে দেয়ার পর ভুক্তভোগীদের নকল হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানো হতো। এমনকি চাকরিতে যোগদানের প্রথম এক-দুই মাস নিজেদের পকেট থেকে কিছু টাকা ‘বেতন’ হিসেবেও দেয়া হতো।
এরপর ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি যোগাযোগ বন্ধ করে চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যেত।
এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


