সিলেটে পরীক্ষকের কাণ্ডে তোলপাড়

চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে দেখছিলেন এইচএসসির খাতা!

সিলেট নগরীতে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
পরীক্ষক চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে দেখছিলেন এইচএসসির খাতা!
পরীক্ষক চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে দেখছিলেন এইচএসসির খাতা! |নয়া দিগন্ত

সিলেট নগরীতে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ পেয়ে শনিবার দিবাগত রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। এছাড়া তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চায়ের টং দোকানে বন্ধুদের সাথে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা যায় ওই শিক্ষককে। ঘটনাস্থল থেকে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করা হয়। পরে বোর্ড চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নেয়া হলে বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, পরীক্ষকদের বাসায় বসে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কথা। কিন্তু ওই শিক্ষক পাবলিক প্লেসে বন্ধুদের নিয়ে বসে খাতা দেখছিলেন। খবর পেয়ে রাতেই সেখানে গিয়ে উত্তরপত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। একই সাথে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে এবং উত্তরপত্রগুলো বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে।

এদিকে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুধু শনিবার রাতেই নয়, এর আগের রাতেও একই স্থানে কয়েকজন মিলে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ করতে দেখা গেছে। এমনকি পরীক্ষকের বাইরে অন্য ব্যক্তিদের হাতেও উত্তরপত্র দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।