গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দী পালানোর ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তরা হলেন— মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
সহকারী কারা মহা-পরিদর্শক (এআইজি) জান্নাতুল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নারী বন্দী পালানোর ঘটনার তদন্তে শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কয়েকজন নারী বন্দীকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে রিম্পা (২১) নামে এক নারী বন্দী কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের হাসানের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দী ছিলেন। তিনি কারওয়ান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। গত ৯ জুলাই আদালত থেকে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
ঘটনার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ পুরো কারাগারে তল্লাশি চালালেও রিম্পার কোনো সন্ধান পায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।
এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক বন্দীকে দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এতো নিরাপত্তার মধ্যেও একজন বন্দী কারাগার থেকে কিভাবে পালালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে বন্দী রিম্পাকে আর কারাগারে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমাদের টিম কাজ করছে। তারা একটি ‘ক্লু’ পেয়েছে। কোনাবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইলফোন থেকে ওই নারী তার বাড়িতে কথা বলেছেন। এর সূত্র ধরে অভিযান চলছে। নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দীদের লকআপ করতে হয়। ওই সময়ের মধ্যে বন্দীদের লকআপ না করায় বন্দী রিম্পা কৌশলে কারাগার থেকে পালিয়ে যায়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার মহিলা কারাগার থেকে এক বন্দী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পালিয়ে যাওয়া বন্দীকে গ্রেফতারে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।



