মেরামতের দুই দিনের মাথায় ধারণক্ষমতার বাইরে ইটবোঝাই ট্রাকের ভারে ফের বেইলি ব্রিজের পাটাতন ধসে পড়ে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন থাকায় রাস্তার দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা সদরের সাথে রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রামের যোগাযোগের একমাত্র সড়কের এ বেইলি ব্রিজটির পাটাতন ভেঙে গত শনিবার (১৮ জুলাই) সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দু’দিন ধরে বেইলি ব্রিজটির পাটাতন মেরামত করে গত মঙ্গলবার চালু করলেও বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় পাটাতন ভেঙে আবারো ইটবোঝাই ট্রাক আটকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইটভাটা পাড়া হিসেবে পরিচিত সেগুন বাগান, বহড়াতল, বেতছড়ি ও ত্রিপুরা দিঘি এলাকা থেকে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার বাইরে ইটবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান। পাঁচ টনের অধিক যানবাহন চলাচল নিষেধ থাকলেও প্রতিটি ট্রাকে বহন করা হচ্ছে ১০ হাজার ইট—গাড়িসহ যার ওজন দাঁড়ায় ৩৫-৪০ টন। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো কথাই কর্ণপাত করছেন না অসাধু ইট ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘পাঁচ টনের অধিক ওজনসম্পন্ন যানবাহন চলাচল নিষেধ থাকলেও অতিরিক্ত পরিমাণে ইট বোঝাই করে পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি উদ্ধারের পর দ্রুত ব্রিজের মেরামত কাজ শেষ করে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করা হবে।’
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাজীব হাসান জানান, ব্রিজটি এমনিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে সড়ক বিভাগ জানিয়েছে।
অপরদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা থেকে অতিরিক্ত ইট বোঝাই করে পারাপার করার কারণে পাটাতন ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: নাজমুল আহসানের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী এসব অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসন কিংবা স্থানীয়দের কোনো কথাই কর্ণপাত করছেন না। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে বিপদে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।



