ইলিশ রক্ষায় সবাইকে ভূমিকা পালন করতে হবে : হুইপ নিজান

হুইপ নিজান জানান, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার যে প্রজ্ঞাপন হয়েছিল, সেটি পরিবর্তন করে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

Location :

Chandpur
মতবিনিময় সভায় অতিথিরা
মতবিনিময় সভায় অতিথিরা |নয়া দিগন্ত

জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘চাঁদপুর ইলিশের প্রধান প্রজনন কেন্দ্র। সারা পৃথিবী চাঁদপুরকে ইলিশের জন্য চেনে। তাই ইলিশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘এটা তারেক রহমানের সরকার। সরকারের নীতিমালার বাইরে আমরা কিছু করতে পারব না। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ীই সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

চাঁদপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘জেলার আটটি উপজেলায় মাত্র দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে কিভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে?’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে হুইপ নিজান জানান, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার যে প্রজ্ঞাপন হয়েছিল, সেটি পরিবর্তন করে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

কোস্টগার্ডের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মালামাল জব্দ করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো মামলা বা কাউকে আটক করা হয়নি—এটা কেন হবে? জব্দ করা মালামালের ঘটনায় আইন অনুযায়ী মামলা করতে হবে।’

মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে উল্লেখ করে হুইপ বলেন, ‘মাদকসেবীদের একসাথে রাখা যাবে না। তাদের আলাদাভাবে রাখতে হবে।’ তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাসপোর্ট অফিসে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দালালদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে।’ বিদেশগামীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েও যেন অযথা ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনে তৎপরতা বেড়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনে অফিস আছে তা ভূমি অফিসের সরকারি জায়গায়। সেই ভবন মাদকাসক্তদের আস্তানা হয়ে উঠেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনে লোকদের ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে তারা নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সাবরেজিস্টার অফিস এখনো পুরণো ধারায় চলছে। সকল ক্ষেত্রেই আইন মেনে চলতে হবে। এতো বছর যেভাবে চলেছে, এখন আর সেভাবে চলা যাবে না। নতুন বাস্তবতায় সবাইকে আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নতি করা দরকার। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা করা খুবই জরুরি। চাঁদপুরের সকল নাগরিক কৃতজ্ঞ থাকবে। রোগী মারা যাওয়ার পর সমাজসেবার বরাদ্দ দিয়ে লাভ কি? আবেদন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সময়মতো সরকারি সহায়তা পান।’

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, ‘জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার আমাদের না জানিয়ে আমাদের নির্বাচনী এলাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমরা কষ্ট পাই। জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘খুনের মামলার আসামিরা জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ করেন—এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি অনেক দায়িত্ব রয়েছে। প্রশাসনের কোনো আচরণে যেন এমনটা প্রকাশ না পায়, তারা বিশেষ কোনো দলের নিয়োগপ্রাপ্ত।’

ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভূমি অফিস এখনো পুরোনো কায়দায় চলছে। আমরা সকল সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আন্তরিকতা চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, ‘কোন উপজেলায় কোন দফতরের কী কী কাজ হচ্ছে বা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থাপন করলে সবাই জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য বানিয়েছে। জনগণের কাজ করার জন্যই আমি এসেছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জেলার উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থে কাজ করছি।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা বলেন, ‘মাদক মামলায় আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অন্তত ছয় মাস যেন সহজে জামিন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে। কারণ মাদককারবারি বা সেবীরা আটকের পরদিনই জামিনে বের হয়ে এসে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ব্যক্তিদের হুমকি-ধমকি ও হামলা করছে। এতে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে আগ্রহী মানুষ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: এরশাদ উদ্দিন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান, নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যা সেলিস, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, জেল সুপার মো: জয়নাল, চাঁদপুর মাদকদ্রব্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো: মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট কোহিনূর বেগম, গণপূর্ত বিভাগের নাসিম আহমেদ টিটো, সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহীনূর রহমান, শিক্ষা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের উপ-নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সালাহ উদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নুরুজ্জামান, জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মো: ফয়সাল, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মাবরুর ইসলাম চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসার বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু তাহের, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা: মো: রফিকুল হাসান ফয়সার, জেলা কালচারাল অফিসার দিতি সাহা, পল্লী বিদ্যুৎ-১-এর ডিজিএম মো: নিজাম উদ্দিন শামস, পল্লী বিদ্যুৎ-২-এর এজিএম এ এফ এম রাকিবুল হক, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাছিমা আক্তার, প্রবাসী কল্যাণ সহকারী পরিচালক মো: সফিকুর রহমান, বিআরটিএ সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) আব্দুল আল মামুনসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।