ঈদের ছুটিতে মমেকে ৫ দিনে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু

সকালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো: মাইনউদ্দিন খান সর্বশেষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |নয়া দিগন্ত

ঈদের পাঁচ দিনের ছুটিতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৩১মে) সকালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো: মাইনউদ্দিন খান সর্বশেষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র আড়াই মাসে হাম ও এর উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মমেকে সম্প্রতি মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র চার মাস। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ওই শিশু ২৩ মে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়। অপর শিশুটির বয়স তিন মাস ১৫ দিন, যার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায়। ২৫ মে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, নেত্রকোনার পূর্বধলা ও কলমাকান্দা উপজেলা থেকেও দুই শিশুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৭ মাস ও পাঁচ মাস।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ শিশুই হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল, যা তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পরিসংখ্যান বলছে, গত আড়াই মাসে মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ১,৭০০-এর বেশি শিশু। এর মধ্যে অধিকাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শতাধিক শিশু। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৩৮ শিশু।

এদিকে, আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্বজনদের দাবি—শিশুদের সাথে যোগাযোগে বিধিনিষেধ থাকায় তারা সন্তানের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারছেন না। এতে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে অভিভাবকদের।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের বাবল সিপ্যাপ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে সঙ্কটের গভীরতার তুলনায় এ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইসিইউ সুবিধা চালুর জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই তা স্থাপন করা হবে বলে দাবি তাদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকা না নেয়া শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।