মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ফয়েজ মিয়া (২৭) নামে এক প্রবাসীর কুড়ালের আঘাতে তার বৃদ্ধ বাবা সুলতান মিয়া (৭০) নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত ফয়েজ মিয়া সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। দেশে আসার পর থেকে বাড়ির বসতঘর নিয়ে বাবার সাথে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে পুলিশ নিহত বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শাহেদ মিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এর আগে, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের মন্ত্রীগাঁও এলাকায় নিজ বাড়িতে ছেলের কুঠারের আঘাতে গুরুতর আহত হন বৃদ্ধা সুলতান মিয়া। পরে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে অভিযুক্ত ছেলে ফয়েজ মিয়া পলাতক রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত সুলতান মিয়া পেশায় কৃষক ছিলেন। তার ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। হত্যায় অভিযুক্ত ছেয়ে ফয়েজ মিয়া গত ২৪ জুন প্রবাস থেকে দেশে আসেন। দেশে আসার পর থেকে বাড়ির বসতঘর নিয়ে তার বাবার সাথে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে বাবা সুলতান মিয়ার সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় অভিযুক্ত ফয়েজ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা কুড়াল দিয়ে বাবার মাথার পেছনে আঘাত করলে তিনি মারাত্মক আহত হন। পরে অভিযুক্ত ফয়েজ মিয়া ও স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় সুলতান মিয়াকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ সময় হাসপাতালে বাবার লাশ রেখে অভিযুক্ত ফয়েজ মিয়া পালিয়ে যান। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা রাতে পুলিশকে না জানিয়ে গোপন রাখে।
শনিবার দুপুরের দিকে সুলতান মিয়ার ছেলেরা জুড়ী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নিহত সুলতান মিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ছেলে শাহেদ মিয়া এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ছেলে ফয়েজ মিয়াকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।



