বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি

সারাদিন ধরেই পানি বাড়ছে। সন্ধ্যার পর থেকে আরো ভয় লাগছে। ঘরের উঠানে পানি উঠে গেছে। রাতে পানি আরো বাড়বে কি-না, সেই দুশ্চিন্তায় কেউ ঘুমাতে পারছি না।

Location :

Dimla
তিস্তা নদীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্ট
তিস্তা নদীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্ট |নয়া দিগন্ত

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে। গবাদিপশু, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো অর্থাৎ ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ১০টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৩০ মিটার, যা বিপদসীমা ৫২.১৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার উপরে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, একইদিন দুপুর ৩টায় নদীর পানি ছিল বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচে। পরে সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার ব্যবধানে তা বেড়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপরে দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর রাত ১০টার মধ্যে পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপরে পৌঁছায়।

পানি বৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সারাদিন ধরেই পানি বাড়ছে। সন্ধ্যার পর থেকে আরো ভয় লাগছে। ঘরের উঠানে পানি উঠে গেছে। রাতে পানি আরো বাড়বে কি-না, সেই দুশ্চিন্তায় কেউ ঘুমাতে পারছি না।

খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের গৃহিণী রওশন আরা বলেন, বাড়িতে ছোট দুই সন্তান আর অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রান্না করা যাচ্ছে না। গরু-ছাগল কোথায় রাখব, সেই চিন্তায় আছি।

টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক এজাদুল ইসলাম বলেন, মাঠে এখনো সবজির অনেক জমি রয়েছে। পানি আরো বাড়লে সব তলিয়ে যাবে। কয়েক মাসের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে যাবে।

গয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) বাবর আলী বলেন, অনেক পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছে। পানি বাড়তে থাকায় সবাই নির্ঘুম রাত পার করছেন। প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানে ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পানি নিরাপদে প্রবাহিত করতে ব্যারাজের সবগুলো অর্থাৎ ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে পানি আরো বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।