রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা।

Location :

Puthia
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ |নয়া দিগন্ত

পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় শত শত কৃষক এই অবরোধে অংশগ্রহণ করেন। এতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

গত দু’মাস ধরে পুঠিয়ায় কৃত্রিম সার সঙ্কটের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ধান চাষের ভরা মৌসুমে ন্যায্য মূল্য দিয়েও সার পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা। সরকারি দামে সার কেনা কৃষকের কাছে এখন যেন সোনার হরিণ। টিএসপি আর ডিএপি সারের তো দেখাই মিলছে না ডিলারদের কাছে। এগুলো ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর আগেই যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। বেশি দাম দিলে খুচরা ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষকরা সরকারি বাজারমূল্য অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন না। সরকার নির্ধারণ করে দেয়া সারের বাজারমূল্য প্রতি কেজি পটাশ ২০ টাকা, ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা। অথচ অজানা কারণে ডিলার-সাব ডিলারের হাত ঘুরে বালাইনাশক বিক্রেতাদের দোকানে টিএসপি ৬০ টাকা, ডিএপি ৫০ টাকা আর এমওপি ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে তাদের কাছেও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের শর্ত হচ্ছে সারের সাথে বালাইনাশকের ওষুধগুলো তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে।

অবরোধে অংশ নেয়া কৃষক আব্দুস সালাম জানান, চার বিঘা রোপা আমন ধান রোপণ করেছি কিন্তু সারের অভাবে ধান চাষ করতে পারছি না ঠিকমতো। ডিলারদের কাছে গেলে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সারের অভাবে ধান চাষে লাভবান হতে পারবে না কৃষকরা। সার কিনতে গেলে ডিলারদের কাছে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্বিগুণ দাম দিলে বালাইনাশকদের কাছে সার মিলছে।’

এদিকে বানেশ্বরে কৃষকদের অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। প্রতি মাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ আসছে। তবে ধান চাষের মৌসুমে চাষের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।’

ডিলারদের কাছে সার নেই, সব সার বালাইনাশক বিক্রেতাদের কাছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নীরব থাকেন তিনি।