সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জহুরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই জাকির আল-আহসান।
এর আগে, ঘটনার পর প্রধান আসামি জহুরুল ছাড়াও আরো আট আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে র্যাব-১০ আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), ইমরান (২৬) ও র্যাব-৪ নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো: রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও মো: ওয়াসিমকে (৪০) পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করে দুপুরে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করে।
এছাড়াও পরে আরো দু’জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন বিল্লাল (৩৪) ও দেলোয়ার (৩৫)।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম নয়া দিগন্তকে জানান, গ্রেফতার ১০ জনের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠানো হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জহিরুলসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি সাতজন এবং বাকি চারজন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত অভিযুক্ত ১৫ আসামি হলো— জহুরুল (৩২), মজিবর (৩৫), কাশেম (৩৩), আলমগীর (৪০), আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), মারুন (২০), জিৎ (২২), লালন (২০), ইমরান (২৬), মাসুদ (২৫), জিল্লু (২৩), রুদ্র (২৬), রাকিব (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রমতে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আমিনবাজারের বড়দেশীর মদিনা সিটি এলাকায় আবুল কালামের অটোগ্যারেজের সামনে অজ্ঞাত পরিচয় এক অটোচালক সংযোগ সড়কে অটোরিকশা রাখেন। এটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রাইভেটকার মালিক জহুরুলের (৩২) সাথে অটোগ্যারেজ মালিক আবুল কালামের তর্ক-বিতর্ক হয়।
এ সময় প্রাইভেটকার মালিক জহুরুল গাড়ি থেকে নেমে গ্যারেজ মালিক আবুল কালামকে চড় মারেন। এমন সময় পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে প্রাইভেটকারের মালিক জহুরুলসহ তার সহযোগীরা আলতাফের ওপর চড়াও হন।
তখন পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ জীবন বাঁচানোর জন্য তার ছেলে শরীফুলের মালিকানাধীন এড্রইট ফ্যাশনের দিকে যান। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা জহুরুল, মজিবর, কাশেম, আলমগীরসহ তার সহযোগীরা আলতাফের পেছনে দৌড়ে যান। সেইসাথে তারা ফোন করে অন্যদের ডেকে নেন। পরে সবাই মিলে দেশীয় অস্ত্র পাইপ, ধারালো চাকু, হাতুড়ি, বাঁশের ও কাঠের লাঠি নিয়ে এড্রইট ফ্যাশনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
সেখানে প্রাইভেটকার মালিক জহুরুল তার হাতে থাকা কাঠের লাঠি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারতে থাকলে রক্তাক্ত জখম হন এসআই আলতাফ হোসেন। এ সময় বাঁচার জন্য আলতাফ হোসেন চিৎকার দিলে তার ছোট ছেলে আরিফুর রহমান এগিয়ে আসে। তখন তার ওপরও আঘাত করে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলের কারখানার মালামাল ও নগদ টাকা লুটপাট করেন জহুরুল ও তার সহযোগীরা।
পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে শনিবার রাতে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের স্ত্রী মোসা: শিউলি পারভীন রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।



