গফরগাঁও‌য়ে বিএনপি’র দলীয় কোন্দলে রণক্ষেত্র গয়েশপুর, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ময়মন‌সিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সাথে গয়েশপুর বাজারে বিএনপি কার্যালয় ও একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
গফরগাঁও‌য়ে বিএনপি’র দলীয় কোন্দলে রণক্ষেত্র গয়েশপুর, আতঙ্কে এলাকাবাসী
গফরগাঁও‌য়ে বিএনপি’র দলীয় কোন্দলে রণক্ষেত্র গয়েশপুর, আতঙ্কে এলাকাবাসী |নয়া দিগন্ত

ময়মন‌সিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সাথে গয়েশপুর বাজারে বিএনপি কার্যালয় ও একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

‘ঘরে বসার মতো একটি চেয়ারও নেই, আলমারি ভেঙে টাকা-স্বর্ণ নিয়ে গেছে’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন অভিযোগ করেন পাগলা থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুখেন আহমদ।

তিনি দাবি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জেরেই তার বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাইথল ইউনিয়নের বিএনপির কয়েক নেতার নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, বল্লম ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলসহকারে গয়েশপুর বাজারে প্রবেশ করে। এরপরই শুরু হয় তাণ্ডব—এলোপাতাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান লিটনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আক্রমণ চালায়। পরে একে একে বাজারের আরো কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়েও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা বিএনপির নেতা ডা: মুফাখখারুল ইসলাম রানা নিয়মিত যে কার্যালয়ে বৈঠক করতেন, সেটিও রক্ষা পায়নি।

এরপর হামলাকারীদের একটি অংশ ছাত্রদল নেতা সুখেন আহমদের বাড়িতে হামলা চালায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়িটি রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘরের আসবাবপত্র, আলমারি, খাট, টেবিল-চেয়ার, লাগেজসহ সবকিছু ভেঙে তছনছ করা হয়েছে। আলমারি ও সুটকেস ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান কাপড়চোপড় লুট করা হয়। এমনকি রান্নাঘরের টিনের দেয়াল কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, পানির ট্যাংক ফুটো করে দেয়া হয় এবং মোটরের সংযোগ কেটে দেয়ায় খাবার পানির সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছে পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পাইথলে একটি বড় আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একপক্ষ সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর অনুসারী, অন্যপক্ষ জেলা বিএনপির নেতা ডা: রানা ও অ্যাডভোকেট আব্দুল ফাত্তাহর সমর্থক—এমন দ্বন্দ্বের জেরেই এই সহিংসতা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সুখেন আহমদ বলেন, ‘১৭ বছর বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু নিজের দলের লোকজনের হাতে এমন হামলার শিকার হবো—কখনো ভাবিনি। আমার পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভুক্তভোগীরা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে পাগলা থানার ওসির ফোনে বারবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।