কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রী ও তার মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় লোকজন জানায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় চকরিয়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল ৮ জুন সোমবার রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে আট থেকে ১০ জনের মুখোশধারী সশস্ত্র একদল ডাকাত ওই প্রবাসীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে বাড়ির ভিতরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাট শেষে একপর্যায়ে ডাকাতদলের বেশ কয়েকজন সদস্য বাড়িতে অবস্থানরত গৃহকর্ত্রী এবং তার স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা কন্যাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের শিক্ষার্থীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, তার ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাসুদ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।’
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ছয়জনকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আটক কৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।



