৩৪ দিনে শাহজালাল রহ:-এর মাজারের দানবাক্সে মিলল প্রায় ৭১ লাখ টাকা

পাওয়া গেছে স্বর্ণ-রৌপ্য ও ১৯ দেশের মুদ্রা

এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
এবার অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী মিলে টাকা গুনেন
এবার অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী মিলে টাকা গুনেন |ছবি : নয়া দিগন্ত

তৃতীয় দফায় ৩৪ দিনের ব্যবধানে সিলেটের হযরত শাহজালাল রহ:-এর মাজারের ৩টি ডেগ ও ৫টি দানবাক্সে পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এ ছাড়াও পাওয়া গেছে ১৯টি দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্যও।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘোষণা দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্সে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ টাকা ছাড়াও ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ ও ১ ভরি ২ আনা রৌপ্য পাওয়া গেছে। বিদেশী মুদ্রার মধ্যে ৩১.১১ বৃটিশ পাউন্ট, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, সৌদির ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, নেপালের ১০০ রুপি, ওমানের ১০০০ বায়সা, আরব আমিরাতের ৬৪ দিরহাম, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুর্কির ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ১০০০ ডং, জাপানের ১০০০ ইয়েন, কাতারের ১১২ রিয়াল, লেবাননের ১০ পাউন্ট, মিসরের ১০ পাউন্ট, .৪০ ইউরো, বাহরাইনের ১ পয়সা, কানাডিয়ান ১ ডলার। এ ছাড়া নজরানা হিসেবে গরু-ছাগল, হাস-মুরগীও পাওয়া গেছে।

গণনা শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতিমালা তৈরি করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতত্বে আমাদের আরো কয়েকজনকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। আমরা অচিরেই একটি নীতিমালা নির্ধারণ করে দেবো। সেই নীতিমালার আলোকেই পরবর্তীকালে টাকা গণনা ও ব্যবস্থাপনা হবে।

এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে দানবাক্স ও দানের ডেগগুলোর সিলগালা খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। ৩টি ডেগ ও ৫টি বড় দানবাক্স খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয় টাকা গণনা। অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী মিলে টাকা গুনেন। এবার ১ মাস ৪ দিন পর মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করা হলো।

এর আগে চলতি বছরের ১২ জুন হযরত শাহজালাল রহ: ও হযরত শাহপরান রহ:-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম। তার নির্দেশে ১৮ জুন ডেগে সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়।

বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরবর্তীকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ২২ জুন প্রথম দফায় তা খুলে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।

প্রথম গণনার ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। তখন পাওয়া যায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।