সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ১ শিশুর মৃত্যু

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ২৮৫ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৪ জন ভর্তি রয়েছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা
হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা |ফাইল ছবি

সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১০০ জনে।

সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী নয় মাস বয়সী শিশু আবু সাঈদ সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বাসিন্দা।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৮৫ জন।

রোববার (১৯ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স রয়েছেন এবং বাকি ৯৯ জন শিশু। এছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকিদের মৃত্যু হয়েছে হাম উপসর্গে।

মৃত্যুবরণকারী ১০০ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ জন সুনামগঞ্জ জেলার, এরপর ৩৫ জন সিলেটের, মৌলভীবাজারের ১২ জন ও হবিগঞ্জের আটজন রয়েছে।

এদিকে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৫৪৪ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ১৮০ জন, হবিগঞ্জের ৫৫ জন ও মৌলভীবাজারের ২২ জন রয়েছে।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ২৮৫ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৪ জন ভর্তি রয়েছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৯৬ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ১৩ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিনজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে সাতজন, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে চারজন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩২ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আটজন ভর্তি রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হামের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে এক-দুই বছর বয়সী শিশুরা। এই বয়সীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং অনেকের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া এর অন্যতম কারণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা তীব্র অপুষ্টির কারণে শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মাহবুবুল আলম বলেন, মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।